ধান ক্রয় অভিযান দ্রুত শুরুর দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
চলতি বোরো মৌসুমে নয় লাখ মেট্রিক টন চাল এবং দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৬ টাকা দরে ধান এবং ৩৮ টাকা দরে চাল সংগ্রহ করা হবে। আগামী ১ মে থেকে শুরু হয়ে সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
তবে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি সরকারিভাবে ধান ক্রয় অভিযান দ্রুত করা প্রয়োজন। কৃষককেরা জানিয়েছেন, এখনই ধান সরকারিভাবে ক্রয় করা শুরু হলে গত বছরের ক্ষতি কিছু পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবেন তারা।
জামালগঞ্জের হালির হাওরপাড়ের লম্বাবাঁক গ্রামের স্বাবলম্বী কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন,‘গত বছর কৃষকরা ধান হারিয়ে সর্বশ্বান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে হাওরে কিছুটা ধান কাটা শুরু হয়েছে। এই বছর যতদ্রুত সম্ভব কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু করা প্রয়োজন। কৃষকরা সরাসরি গোদামে ধান বিক্রির সুযোগ পেলে কিছুটা ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন,‘সরকারি ধানক্রয় অভিযান দালালমুক্ত রাখতে হবে। এর আগে অনেক এলাকায় দালালরা কৃষকদের কার্ড ভাড়া নিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। এই বছর কোনভাবেই কৃষকদের বঞ্চিত করা যাবে না। ’
তাহিরপুরের শনির হাওরপাড়ের উজান তাহিরপুরের কৃষক মুক্তার হোসেন বললেন,‘গত বছরের ক্ষতি কোনোভাবে উঠবে না। তবে সরকারি গোদামে যদি এখনই ধান বিক্রির সুযোগ পাই কিছুটা হলেও উপকার হবে। এখন গোদাম ফাঁকা ছিল, ভিড় ও ঝামেলা কম ছিল। পরে সবাই যখন একসাথে ধান বিক্রির চেষ্টা করেন তখন অনেকেই আর দিতে পারেন না।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক অবনী মোহন দাস বলেন,‘ ইতোমধ্যে সকল হাওরে কমবেশী ধান কাটা শুরু হয়েছে। এখনই যদি কৃষকরা সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পেত তাহলে খুব ভাল হত। হাওর থেকে ধান নিয়ে সোজা গোদামে চলে যেত। প্রান্তিক কৃষকরা পরে বিক্রির সুযোগ পায় না। দালালরাই এর সুবিধা ভোগ
করে থাকে। ’
এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ জেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন,‘ সরকারি সিদ্ধান্তে আগামী ১ মে থেকেই ধান-চাল ক্রয় অভিযান শুরু হবে। কার্ডধারী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা হবে। চাল ক্রয় করা তালিকাভুক্ত মিল মালিকদের কাছ থেকে। তবে এই বছর একজন কৃষকের কাছ থেকে কতটুকু ক্রয় করা হবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।’
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় ২৬ টাকা দরে ধান এবং ৩৮ টাকা দরে চাল সংগ্রহ করা হবে।
ওই সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাড. কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এবার প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে ২৪ টাকা ও চাল উৎপাদনে ৩৬ টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর ধানের উৎপাদন খরচ ছিল কেজি প্রতি ২২ টাকা এবং চালের উৎপাদন খরচ ছিল কেজি প্রতি ৩১ টাকা। এবার নয় লাখ মেট্রিক টন চালের মধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ হবে। প্রতি কেজি আতপ চালের সংগ্রহ মূল্য হবে ৩৭ টাকা।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩৪ টাকা দরে আট লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ২৪ টাকা দরে সাত লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সরকার। কিন্তু বাজারে চালের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ চালকল মালিক সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করতে পারে সরকার।
বর্তমানে খাদ্য মজুত আছে ১২ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর বোরো চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৮ এপ্রিলের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে ৯ লাখ ৬৯ হাজার টন চাল ও ৮ লাখ ৬২ হাজার টন গম রয়েছে। আর বাজারে সব ধরনের চালের দাম তিন মাস ধরে স্থির রয়েছে। মোটা চাল প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৫০ থেকে ৫৫ এবং সরু চাল ৬৪ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।