ধান গাছের ব্লাস্ট রোগকে ‘হিসাবের মধ্যে’ ধরতে হবে

তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান গাছে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাবের একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই পর্যায়ে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত জমির পরিমাণ খুব বেশি নয়, কৃষি বিভাগও এই পরিমাণকে বলছেন ‘এটা হিসাবের মধ্যে আসে না’, তারপরেও এখনই বিষয়টিকে সবিশেষ গুরুত্ব না দিলে এই ছত্রাকবাহিত রোগটি কৃষকদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হয়ে উঠতে পারে। ‘এটা হিসাবের মধ্যে আসে না’ বলে কৃষি বিভাগের আরামে নিদ্রামগ্ন হওয়ার সময় এখন নয়। কারণ জেলার প্রধান বোরো ফসল কৃষকের গোলায় উঠতে আর কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা মাত্র। জেলার লক্ষাধিক কৃষক এক বুক আশা নিয়ে হাওরের দিকে তাকিয়ে আছেন, কবে তারা কষ্টে লাগানো সোনার ধান গোলায় তুলবেন। গতবার শতভাগ ফসল বিপর্যয় এবং এর আগের বছর বৃহৎ পরিমাণে বোরো ফসল হানির পর অনেক কৃষক বোরো চাষাবাদে আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন। অনেকে এলাকা ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন পেশায় জীবিকার সন্ধানে নিয়োজিত হয়ে গেছেন। কিন্তু বোরো ফসলী হাওর এলাকার কৃষকদের আর কোন পথ না থাকায় শেষ পর্যন্ত বোরো ফসলকেই আঁকড়ে থাকতে হয়েছে। বুকে অজানা আশঙ্কা আর ফসল হারানোর বেদনা নিয়েই তারা এবার চাষাবাদ করেছেন। সরকার কৃষকদের যথেষ্ট পরিমাণে প্রণোদনা, সমর্থন ও সহযোগিতা জুগিয়েছেন। এবার এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকার কারণে কৃষকদের স্বপ্নের বিস্তৃতি ঘটেছে। হাওরের শীষ মেলা সবুজ বা হালকা হলুদাভ ধান গাছের দিকে তাকিয়ে তারা স্বপ্নের বীজ বুনছেন। এমন অবস্থায় বোরো ফসলের উপর যেকোন ধরনের দুর্যোগ, তা পরিমাণে যত সামান্যই হোক, অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই।
ব্লাস্ট রোগ ছত্রাকবাহিত। এই রোগ এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছড়ায়। সুতরাং শুরুতে দমন করা না গেলে এই রোগটি হাওরময় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাহিরপুরের যেসব হাওরে ব্লাস্ট ধান গাছকে আক্রমণ করেছে, সেখানে কৃষকরা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করছেন। কৃষকরা বলছেন, এই ঔষধ দিয়েও রোগটিকে দমন করা যাচ্ছে না। ব্লাস্টের আক্রমণে সবুজ ধান গাছ সাদা হয়ে মরে যাচ্ছে। আগাাম জাতের ব্রি-২৮ ধানেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে বলে জানা যায়। কৃষি অধিদপ্তরের উচিৎ তাদের সকল জনবল নিয়ে মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়া। এই রোগের হাত থেকে ধান গাছকে রক্ষা করতে পরামর্শ ও উপকরণ নিয়ে তাদেরকে কৃষকদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। অফিসে বসে কাগুজে প্রতিবেদন বানানোর বদলে এখন তাদেরকে প্রকৃত অর্থেই কৃষকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে হবে। নতুবা এই ব্লাস্ট রোগে যত কম জমিই ক্ষতিগ্রস্ত হোক না কেন কৃষি বিভাগ এর দায় এড়াতে পারবে না।
শুধু ব্লাস্ট কেন, এই সময়ে ধান গাছে আর কোন কোন রোগ বালাই আক্রমণ করতে পারে সেগুলো সম্পর্কেও কৃষকদের সচেতন করা কৃষি বিভাগের দায়িত্ব। সরকারি প্রশাসন এবার বাঁধের কাজ তদারকি করে যেরকম ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বোরো ফসলকে যেকোন রোগ বালাইর হাত থেকে রক্ষা করে সরকারের কৃষি বিভাগের একই রকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করার সময় এখন। সুতরাং রোগাক্রান্ত জমির পরিমাণ ‘হিসাবের মধ্যে পড়ে না’ এই জাতীয় অবজ্ঞার চাইতে হিসাবের মধ্যে ধরে নিয়েই তারা সামনের কয়েক সপ্তাহ তৎপর থাকবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।



আরো খবর