ধান দিতে পারছেন না জগন্নাথপুরের কৃষকরা

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলার খাদ্যগুদামে জায়গা না থাকায় চাহিদামতো ধান দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে করে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত ধানের নায্য দাম প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ গুদাম কর্তৃপক্ষ প্রথমে ধান না নিয়ে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করায় গুদামে ধান রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কৃষকরা ধান দিতে পারছেন না।
অপরদিকে গুদাম কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন দীর্ঘদিন ধরে একটি গুদামের জন্য আবেদন করলেও গুদাম না থাকায় তাদেরকে ধান চাল সংগ্রহে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৬০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গুদামে জায়গা না থাকায় কৃষকের কাছ থেকে ১৫০ মেট্রিকটন ধান নেয়া হবে। মিল মালিকদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ৫৩৯ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর খাদ্য গুদামের খাদ্য পরির্দশক আব্দুল হান্নান কামাল বলেন, ‘জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে একটি ৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গুদাম রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে আরো ৫০০ মেট্রিকটন করে ধারণ ক্ষমতার দুটি গুদাম রয়েছে। তারমধ্যে রানীগঞ্জের একটি ৫০০ মেট্রিকটন গুদাম বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় উপজেলা সদরের ৫০০ মেট্রিকটন ও রানীগঞ্জ বাজারের ৫০০ মেট্রিকটন ধান ও চাল রাখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জগন্নাথপুর উপজেলার খাদ্য গুদামে মিল মালিকদের কাছ থেকে ৩৬০ মেট্রিকটন চাল ও রানীগঞ্জ খাদ্য গুদামে ১৭৯ মেট্রিকটন চাল কেনা হয়েছে। এছাড়াও পূর্বের আরো মজুদ রয়েছে। এখন যে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এতে করে ১৫০ মেট্রিকটন ধান নেয়া সম্ভব।’
কৃষকদের নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর এবার কৃষকরা ধান তুলতে পেরেছেন। অভাব, অনটন ও কৃষি কাজের খরচ বের করতে সারা বছরের ধান রেখে উদ্বৃত্ত ধান কৃষকরা বিক্রি করতে চাইছেন। সরকার ধানের নায্য দাম নির্ধারণ করে ধান কেনার ঘোষণা দিলেও গুদাম কর্তৃপক্ষ ধান না কিনে শুধুমাত্র চাল দিয়ে গুদাম ভরপুর করায় কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।’
জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরপাড়ের দাসনোওয়াগাঁও বাসিন্দা কৃষকনেতা মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাশ বলেন, ‘কৃষকদের কথা বিবেচনা করে শুরুতেই ধান সংগ্রহ করা দরকার ছিল। তারপর চাল নিলে ভাল হতো। গত বছর একজন কৃষকের কাছ থেকে একটি কৃষিকার্ডে ৭৫মণ ধান নেয়া হয়েছিল। এবার একজন কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ২৫ মণ ধান নেয়া হচ্ছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ধীরাজ নন্দি চৌধুরী বলেন, ‘জগন্নাথপুর উপজেলার ধান-চাল সংগ্রহের জন্য একটি ১ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার গুদাম প্রয়োজন। গুদাম না থাকায় কৃষকের কাছ থেকে চাহিদামতে ধান নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’