ধান সংগ্রহ অভিযানে শক্ত তদারকী বজায় রাখুন

সরকারি খাদ্যশস্য ক্রয় কর্মসূচীর আওতায় এবার বোরো ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা এবং চাল ৩৮ টাকা দরে কেনার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই ক্রয় অভিযান চলবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। উৎপাদনকারী কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাইয়ে দিতে এবং সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি বছরই অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কর্মসূচী পরিচালনা করা হয়। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাইয়ে দেয়ার মতো একটি বাহারী নীতিকথা নীতিমালায় অন্তর্ভূক্ত থাকলেও এই কর্মসূচীর আওতায় সত্যিকার অর্থেই কোন প্রকৃত কৃষক সুফল পেয়ে থাকেন কিনা সে নিয়ে বরাবরই অভিযোগ থাকে। এবার অবশ্য খাদ্যমন্ত্রী এই কর্মসূচীতে দুর্নীতি করা হলে কঠিন শাস্তি বিধানের সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু চোর কি ধর্মের এই কাহিনি শুনবে? তবে সর্বস্তরের কৃষকদের দাবি হলো, তারা যেন সরকারি খাদ্য গোদামে নিজেদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন তার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
গতবছর শতভাগ এবং এর আগের বছর অর্ধেকের বেশি বোরো ফসল হানির প্রেক্ষাপটে হাওরের কৃষক সমাজ এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাদের মাথার উপর বিশাল ধার-দেনার বোঝা। সরকারি সহায়তার উপর নির্ভর করে বহু প্রান্তিক কৃষক কোনও ভাবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে এবার ফসল উৎপাদনে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। প্রকৃতি সদয় থাকায় এবার ফসল গোলায় তোলার ব্যাপারে হাওরের কৃষকরা ভীষণ রকম আশাবাদী। গোলায় তোলা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সাথেই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি জড়িত। শস্য কাটাই মৌসুমে ধানের দর পতনের ঘটনা ঘটে। এসময় ধানের যে মূল্য পাওয়া যায় তা দিয়ে কৃষকরা উৎপাদন খরচই তোলতে পারেন না। অথচ নানা প্রয়োজনে ফসল তোলার পর কৃষকদের ধান বিক্রির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে অনেক। সরকার যখন কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন তখন সেখানে যাতে প্রকৃত কৃষকরাই ধান বিক্রির সুযোগ পান সেটি নিশ্চিত করার দাবি আমাদের। গোদামগুলোতে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মানদ- অনুসরণ করে ধান ক্রয় করা হয়ে থাকে। ধানের আর্দ্রতা থেকে শুরু করে রঙ ইত্যাদি বিষয়গুলো এর অন্তর্ভূক্ত। অনেক সময় কৃষকরা এসব জিনিস না বুঝে কাচা ধানই গোদামে নিয়ে আসতে পারেন। এজন্য গোদামে সরবরাহতব্য ধানের সঠিক মান সম্পর্কে কৃষকদের পূর্বধারণা দিতে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা আবশ্যক।
সরকারি খাদ্য গোদামে ধান সরবরাহে মধ্যসত্ত্বভোগী ফরিয়া ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কৃষিকার্ড দেখিয়ে গোদামে ধান বিক্রির নিয়ম থাকলেও এটি সঠিকভাবে প্রযুক্ত হয় না। অনেক ফরিয়া ব্যবসায়ী এই ধরনের কৃষিকার্ড সংগ্রহ করে গোদামে ধান সরবরাহ করে থাকে। এবার বাঁধ নির্মাণে সরকার যে শক্ত তদারকি চালু রেখেছিলেন আসন্ন ধান সংগ্রহ মৌসুমেও অনুরুপ শক্ত তদারকি বজায় রাখলে প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হবেন। গ্রামের কৃষকরা একেবারেই সহজ-সরল। তাদের নানাভাবে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি খাদ্যগোদামে সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করলে এই সহজ সরল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তাই পুরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জোরদার তদারকি ব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।