ধান সংগ্রহ তালিকায় কোন কোন ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠেছে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে বোরা ধান সংগ্রহের কৃষক তালিকায় কোথাও কোথাও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠেছে। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্য কর্তৃক স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ ওঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দ্রুততার সাথে তালিকার কাজ করায় সামান্য অসঙ্গতি হয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফার তালিকায় এটি সংশোধন করা হবে।
সরকারি ধান কেনার জন্য সুনামগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়নের ১২৯ জন কৃষকের তালিকা বাছাই করা হয়। যাচাইয়ের সময় বানীপুর গ্রামের একই পরিবারের তিনজনকে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন, গ্রামের আছদ্দর আলীর ছেলে ৭১ নম্বর ক্রমিকের জাকির হোসেন, ৭২ নম্বর ক্রমিকের কামাল হোসেন এবং ৭৬ নম্বর ক্রমিকের ফখরুজ্জামান। সম্পর্কে এরা তিন সহোদর। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত সরদারপুর গ্রামের লোক সংখ্যা পাশের মোহনপুর গ্রামের এক চতুর্তাংশ হলেও এই গ্রামের ১৪ জন কৃষকের নাম তালিকায় রয়েছে। তার নিজের গ্রাম বানীপুর অপেক্ষাকৃত ছোট হলেও সবচেয়ে বেশি ১৬ জন কৃষকের নাম তালিকায় ওঠেছে। কিন্তু ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম মোহনপুরের মাত্র ১০ জন কৃষকের নাম তালিকায় রয়েছে। বানীপুরের পাশের গ্রাম বর্মাত্তরের লোকসংখ্যা বেশি হলেও এই গ্রামে মাত্র ২ জন কৃষক তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। এভাবে তালিকায় বৈষম্য হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার কাছেও এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ যাচাই করে কিছু বৈষ্যমের সত্যতাও পেয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
ইউনিয়নের নৌকাখালি গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব কৃষক তালিকায় স্বজনপ্রীতি করেছেন। তার গ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ কৃষক তালিকায় অন্তভর্ূূক্ত হয়েছেন। তিনি নিজেও বড় কৃষকের তালিকায় আছেন। জমিজমা বেশি হলেও চেয়ারম্যান সাহেব কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত নন।
মোহনপুর ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা একে এম জাকারিয়া বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব বড় কৃষক। কাগজও দেখিয়েছেন। তাই বড় কৃষক হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। লোকবল কম থাকায় পুরো ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত কৃষক অনেক সময় যাছাই বাছাই করা সম্ভব হয় না। তাই ইউপি চেয়ারম্যান- ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কথা বলেই আমরা তালিকা তৈরি করেছি।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিসদের সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, কৃষক নির্বাচন নিয়েও কোথাও কোথাও প্রশ্ন ও অভিযোগের অবতারণা হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহের দাবি জানিয়ে আসছি।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক বলেন, কৃষি কার্ড করার দায়িত্ব কৃষি অফিসারের। ধান ক্রয়ের লটারী হয়েছে ওয়ার্ডভিত্তিক। লটারীতে কোন গ্রামের কৃষককের নাম বেশি ওঠলে কারও কিছু করার নেই। আমার বাবা চাচার ৬০-৭০ হাল জমি ছিল। এখনো আমার ভাগে ৩ হাল জমি আছে। লটারীতে বড় কৃষক হিসাবে আমার নাম ওঠেছে। এই নিয়ে অভিযোগ হলে, যারা অভিযোগ করেছে, তারা যেন এই ধান দিয়ে দেয়। কিন্তু যারা অভিযোগ করেছে, তাদের জমি আছে কী না, সেটিও যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন টিপু বলেন, একজন গণমাধ্যম কর্মীসহ মোহনপুরের কয়েকজনের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে ওই ইউনিয়নের তালিকা যাচাইয়ের জন্য আমি সরেজমিনে গিয়েছি, তালিকায় একই পরিবারের ৩ জনের নাম থাকার যে অভিযোগ ওঠেছে, এরা ৩ ভাই ঠিক আছে। কিন্তু আলাদা আলাদা পরিবারভূক্ত। বানীপুর গ্রাম মোহনপুর গ্রাম থেকে ছোট হলেও ওই গ্রামের কৃষকরা বোরো চাষাবাদ করেন মোহনপুরের চেয়ে বেশি। মোহনপুরের কৃষকরা আমন বেশি চাষাবাদ করেন, আমনের সময় তাদের নাম তালিকায় বেশি ওঠবে। ধান দেবার তালিকা করার সময় বর্মাত্তোরের আগ্রহী কৃষক পাওয়া যায় নি। এছাড়া কম সময়ে তালিকার কাজ শেষ করার তাগাদা ছিল। এই বিষয়টির সংশোধন দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকা করার সময় করা হবে।
২৬ টাকা কেজি দরে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে ৩২ হাজার ৬৬৪ টন ধান কেনা হবে। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা করে নির্ধারণ হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।