ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাটের ফেরিঘাট- পাকা সিঁড়িঘাট, যাত্রী ছাউনি নেই যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

আকরাম উদ্দিন
শহরতলীর ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট এলাকায় সুরমা নদীতে ফেরি পারাপারে যাত্রীদের উঠানামার পাকা সিঁড়িঘাট নেই এবং যাত্রী ছাউনি নেই। ফলে প্রতিদিন ফেরি পারাপারে শহরে আসা-যাওয়া করা হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট এলাকায় এই ফেরি দিয়ে প্রতিদিন শহরে আসা-যাওয়া করেন। ধারারগাঁও এলাকায় এসে ফেরি পারাপারের সময় যাত্রী ছাউনি বা পাকা সিঁড়িঘাট না থাকায় বৃষ্টি-বাদলের দিনে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন যাত্রী সাধারণ। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থী এবং রোগীরা সমস্যায় পড়েন বেশি। প্রাচীন এই ফেরিঘাটের নদী পারাপারে নৌকায় উঠানামায় যুগ যুগ ধরে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন যাত্রীরা।
জানা যায়, এই ফেরিঘাট প্রতিবছর জেলা পরিষদ থেকে ইজারা দেয়া হয়। এবারও এই ফেরিঘাট সর্বোচ্চ ২৮ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট ফেরি ভিড়ানোর সিঁড়িঘাট না থাকায় নদী পারাপারের নৌকাটি বর্ষায় এক স্থানে এবং শুকনা মৌসুমে আরেক স্থানে নদীর তীরে ভিড়ানো হচ্ছে।
ফেরিযাত্রী নুরুল হক বলেন,‘আমি প্রতিদিন মোটরবাইক নিয়ে শহরে আসা-যাওয়া করি। কিন্তু নৌকা থেকে সড়কে উঠতে এবং সড়ক থেকে নৌকায় উঠতে ঝুঁকি নিয়ে উঠানামা করতে হয়। এভাবে উঠানামায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ফেরিঘাটে পাকা সিঁড়ি ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন।’
সুরমা ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন,‘হালুয়ারঘাটের ফেরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফেরি ভিড়ানোর সিঁড়িঘাট নেই। নেই যাত্রী ছাউনি। এই ফেরিঘাটে পাকা সিঁড়িঘাট ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ জরুরি প্রয়োজন।’
উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রব বলেন,‘হালুয়ারঘাটের এই ফেরি নৌকা দিয়ে নদীপার হয়ে শহরে আসা-যাওয়া মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। কিন্তু ফেরি নৌকা ভিড়ানোর জন্য ধারারগাঁও এলাকায় হালুয়ারঘাটে পাকা কোনো সিঁড়িঘাট নেই। নেই যাত্রীদের জন্য ছাউনিঘর। এ কারণে ফেরি পারাপারের মানুষগুলো নানা সমস্যায় পড়তে হয়। ফেরি নৌকা ভিড়ানোর জন্য পাকা সিঁড়িঘাট ও যাত্রীছাউনি নির্মাণের দাবি আমাদের।’