ধূলির শহর সুনামগঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে সারা শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা-ঘাট ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। খনন কাজের মাটি শুকিয়ে ধূলোবালি উড়ে গিয়ে বাসা-বাড়ির পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। অপরদিকে দোকানপাটের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। পথচারীদের গায়ে মাখতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত এই ধূলোবালি। ধূলা নিয়ন্ত্রণে সড়কে পানি ছিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব না দেয়ায় মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। ধূলা নিয়ন্ত্রণসহ দ্রুত উন্নয়ন কাজ শেষ করার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
শহরের বিহারী পয়েন্ট, প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের সামনে, খাদ্যনিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এলাকা, উকিলপাড়া, লঞ্চঘাট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, শান্তিবাগ, ময়নার পয়েন্ট প্রভৃতি এলাকায় পৌরসভার উন্নয়ন কাজ চলছে। শহরের বাসিন্দা ও শহরে আসা মানুষ ধুলোবালির কারণে চলাচলে নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। এসব কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু দ্রুত কাজ শেষ না করে ফেলে রাখার কারণে এমন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ও চলাচলকারী মানুষেরা সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, দোকানের মালামালের চেহারা পাল্টে যায়। মালামাল বিক্রি করতে গামছা দিয়ে ভাল করে মুছে দিতে হয়। তবুও ক্রেতারা বলেন ধূলা লেগে আছে জিনিসপত্রে। আমরা ধূলা দূর করার দাবি জানাই।
বিহারী পয়েন্টের বাসিন্দা সফিউল আলম বলেন, শহরের উন্নয়ন কাজের ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণ না করলে আমাদের চলাফেলায় মারাত্মক ভোগান্তি বেড়েছে। একই সাথে ধূলাবালি উড়ে গিয়ে বাসা-বাড়ি, জিনিসপত্র ও গাছ-পালা নোংরা হচ্ছে।
পথচারী মজিদ মিয়া বলেন, ছোট শিশুদের নিয়ে বেরুনো যাচ্ছে না। সকল দিকে ধূলা আর ধূলা। শিশুদের এলার্জি ও সর্দি-কাশি বেড়ে চলেছে। ধূলা নিয়ন্ত্রণের দাবি আমাদের।
শিক্ষক রমিজ আলী বলেন, পৌরসভার যে এলাকায় কাজ শুরু হয়, পরে আর তাড়াতাড়ি শেষ হয় না। খনন করা মাটি শুকিয়ে ধূলায় পরিণত হয়ে বাতাসে উড়ে এলাকার পরিবেশ নোংরা করে এবং মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন একটি করে গায়ের জামা পাল্টাতে হচ্ছে আমাদের। মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছে। এই মুহূর্তে ধূলার কারণে যদি কেউ অসুস্থ হয়, তখন তার বড় ক্ষতি হবে।
নতুন হাছননগরের বাসিন্দা ফিরোজ আলী বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় কাজ শুরু হলে শেষ হয় দেরিতে। এটা বোধহয় প্রচারের জন্য যে আমরা কাজ করছি। মানুষের যে ভোগান্তি হয়, পৌর কর্তৃপক্ষ তেমন গুরুত্ব দেন না। এতে বাসিন্দারা খুবই বিরক্ত হন।
পথচারী সহিদ মিয়া বলেন, পৌর এলাকার ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে হয় বছরের পর বছর। তখন মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হন। মেরামত কাজ যখন শুরু হয়, তখন পড়তে হয় আরও ভোগান্তিতে। রোগী বা বয়স্করা চলাচল করতে পারেন না। আমরা ধূলা নিয়ন্ত্রণসহ দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ জানান, আমরা দ্রুত উন্নয়ন কাজ শেষ করব। ধূলোবালি উড়ে যাওয়ার কারণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তা ঠিক। শহরের রাস্তা-ঘাটে পানি ছিটিয়ে ধূলা নিয়ন্ত্রণ করার কর্মসূচি আছে আমাদের। আমরা ধূলা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবো।