ধোপাখালীতে নৌকার হাট

সাব্বির আহমেদ
পৌর শহরের ধোপাখালীতে সুরমা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে নৌকার হাট। সারি সারি করে রাখা হয়েছে এসব নৌকা। বিভিন্ন আকৃতির তৈরি নৌকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০-৩৫ টি নৌকা দেখা গেল হাটে। প্রতি বর্ষায় সপ্তাহে এক দিন শনিবার বসে এই নৌকার হাট। ভোর থেকেই সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রাম থেকে নৌকা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বর্ষায় হাওর অঞ্চলে চলাচলের একমাত্র মাধ্যমে পরিণত হয় নৌকা। নদী, হাওর, খাল, বিল, জলাশয় সবই পানিতে একাকার হয়ে গেছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে গ্রামগুলো বর্ষায় এক একটি দ্বীপে পরিণত হয়েছে। গ্রামগুলোর চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করছে। লোকজনের চলাচলে এখন নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রতিটি বাড়িতেই চলাচলের জন্য থাকে এক বা একাধিক নৌকা। তবে বর্তমানে রাস্তা-ঘাট-কার্লভাট তৈরি হওয়ায় নৌকা বিক্রি কিছুটা কমে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নৌকার হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়। ক্রেতারা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ি নৌকা খুঁজছেন। নৌকা ব্যবসায়ীরা জানালেন, নৌকাগুলো তারা নিজেই তৈরি করেন। বাড়িতে বসে এই নৌকা তৈরি করে হাটে নিয়ে আসেন বিক্রি করতে। তবে আগের মত এখন আর বেশি নৌকা বিক্রি হয় না।
নৌকা ক্রেতা হালুয়ারগাঁও নিবসী জমির উদ্দিন বলেন, বাড়ির চারদিকে পানি। নৌকা ছাড়া ঘর থাকি বাইরইয়া কোনও জায়গাত যাওয়া যায় না। এর লাগি নৌকা কিনছি।
অন্য একজন নৌকা ক্রেতা দোয়ারাবাজার উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, ঘড় থাকি বাহির হইয়া বাথরুমে যাইতেও নৌকা দরকার। বাড়ির চাইর দিকে পানি আর পানি। এই নৌকা দিয়া সব জায়গায় আওয়া-যাওয়ার কাজে লাগব, মাছও ধরমু ।
নৌকা কিনতে আসা সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি, বিশম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গ্রামের বাড়ির চারদিকে পানি। কেউ ঘড় থেকে বের হতে পারছেন না। তাই নৌকা কিনতে আসছি। অনেক গুলো নৌকা দেখছি, কিন্তু নৌকার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।
এদিকে নৌকা বিক্রেতা আছবর আলী বলেন, পানি বাড়ছে, ভাবলাম নৌকা বেশি বিক্রি হইব। কিন্তু তেমন বেচা কেনা নাই।’
হালুয়ারঘাটের বাসিন্দা মো. ফারুক মিয়া বলেন, ঘরের চারদিকে পানি আর পানি। কোন কাজ করতে পারতাছি না। তাই পরিবারের ভরন-পোষণের লাগি নৌকাটা বেছলাম।
নৌকা ব্যবসায়ি সুনু মিয়া বলেন, আমরা নৌকা তৈরি করি। নৌকা তৈরি করে কিন্তু এখনও ব্যবসা তেমন জমে নাই। পানি বাড়ছে। আশা করি আগামী কয়েক দিনে নৌকা ভালই বিক্রি হইব।
ইজারাদার আমির উদ্দিন বলেন, বাজারে ছোট নৌকার চাহিদা বেশি। মানুষ যাতায়াত করার জন্য ছোট নৌকা বেশি খুঁজে। ১২ হাতের ছোট নৌকা ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ টাকা, ১৩ হাতের মাঝারি নৌকা ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা এবং ১৬ হাতের বড় নৌকা ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।