ধোপাখালী-নবীনগর রাস্তার বেহাল দশা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আওতাধীন নবীনগর এলাকায় প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়কের জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শহর, শহরতলী ও সুরমার উত্তরপাড়ের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।
এই সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজন ও নবীনগর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছরেরও বেশী সময় ধরে গুরত্বপূর্ণ সড়কটি ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সড়ক সংস্কার করে দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
তবে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল জানিয়েছেন, নবীনগর ও মোহাম্মদপুর-মাইজবাড়ী সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুই রাস্তার উন্নয়নে প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে শহররক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ওই দুই রাস্তার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে, খুব শিঘ্রই কাজের দরপত্র আহবান করা হবে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব যাতে ঈদের আগেই সড়ক দুইটির কাজ শেষ করা যায়।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত শহরের ধোপাখালী এলাকার স্লুইস গেটের দক্ষিণ পাশে সড়কে কিছু জায়গায় গর্ত রয়েছে। তবে স্লুইস গেটের উত্তর পাশ থেকে নবীনগরের পৌরসভার শেষ পর্যন্ত সড়কে বেশ কয়েকটি জায়গা ভেঙ্গে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি ক্যাম্পের সামনে রাস্তার গর্তগুলো সবচেয়ে বড়। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকে। গর্তের মধ্যে জমে থাকা পানি ও কাদার উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় দিন দিন সড়কের ভাঙ্গা বড় হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নবীনগর এলাকার লোকজন। পাশাপাশি এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামের মানুষসহ ও সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ভাঙ্গা-চোরা রাস্তার কারণে সুরমা নদীর তীরে ধারারগাঁও-এ জেলার একমাত্র সরকারি পার্ক সুরমা ভ্যালিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে যেতে চান না শহরের লোকজন।
নবীনগর রাস্তার ভাঙ্গাচোরার দশা ছিল গত কয়েক বছর ধরেই। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সদ্য প্রয়াত পৌর মেয়র আযুব বখত জগলুল গত বছর নবীনগর পয়েন্ট থেকে কুরবাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বরকতের বাসা পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। ওই সংস্কার করা সড়কটুকু ভাল। তবে পৌরসভার শেষ সীমানা নবীনগরের আলী মসজিদ পর্যন্ত অনেক জায়গায় রাস্তা ভাঙ্গাচোরা।
এদিকে স্থানীয় কারো কারো অভিযোগ, এই রাস্তা ঘন ঘন ভাঙ্গার অন্যতম কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত গাছ বোঝাই বিশাল ট্রাক চলাচল। গভীর রাতে অতিরিক্ত গাছ বোঝাই ট্রাক এই রাস্তাকে ভেঙ্গে দিচ্ছে। ট্রাকের কারণে রাস্তা বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে ভারী ট্রাক প্রবেশ নিষেধ করতে হবে।
রফিক মিয়া নামের ইজিবাইক চালক বলেন,‘ ভাই এই রাস্তার কি যে দশা কেউ এলাকায় না গেলে বুঝত নায়। রাস্তাত বড় বড় গাতা অইছে। ইতার উপর দিয়া গাড়ী চালাইলে বারটা বাইজা যায়। আর প্যাসেঞ্জারেরও জান বারইযায়। অনেকদিন ধইরা রাস্তার খারাপ অবস্থা, কোন দিন ঠিক করা অইব পৌরসভাই জানে।’
নবীনগর এলাকার বাসিন্দা সংস্কৃতিকর্মী অমিত বর্মন বলেন,‘ পৌরসভার ভেতরে এমন ভাঙ্গাচোরা সড়ক, এটা ভাবাই যায় না। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার অনেক জায়গা বেহাল দশায় রয়েছে। মেয়র জগলুল সাব গত বছর যতটুকু কাজ করেছিলেন ততটুকু রাস্তা ভাল। রাস্তায় কোথায় কোথাও হাঁটু সমান গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গা রাস্তার উপর দিয়েই লোকজন চলাচল করছেন। ’
নবীনগর পয়েন্টের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মাইজবাড়ীর বাসিন্দা সাজিদুর রহমান বলেন,‘ নবীনগরের রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তা ভাঙ্গা ও গর্তের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। রাস্তার মাঝের গর্তে পরে প্রায়ই মোটরসাইকেল, রিকশা ও অটোরিকশা ও সিএনজি গাড়ী উল্টে যায়।’
ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল ও রাস্তাটুকু অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নবীনগরের বাসিন্দা উন্নয়নকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন,‘এই রাস্তাটি গত প্রায় ৩ বছর ধরে ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় রয়েছে। তবে গত ৬ মাস ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এই রাস্তাটুকু ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ হচ্ছে, রাস্তাটি পিচ ঢালাই, নিচু ও গভীর রাতে গাছ বোঝাই ভারী ট্রাক চলাচল। বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে রাস্তাটি যানচলাচলের প্রায় অনুপযোগি। বিকল্প রাস্তা না থাকায় মানুষ চরম ঝুঁিক নিয়েই চলাচল করছে। যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি সংস্কার ও ভারী যান চলাচল বন্ধ করা প্রয়োজন। ’