- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

নদীর পানি বৃদ্ধি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার তিন উপজেলার নিম্মাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাত থাকায় সুরমা নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জানা যায়, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার নিম্মাঞ্চলের কিছু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন। তিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কে সরাসরি যান চলাচল করতে পারছে না। ওই সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শক্তিয়ারখলা এলাকা প্রায় ১ কিলেমিটার সড়ক প্লাবিত হয়েছে। এখানে নৌকায় পারপার হচ্ছেন মানুষজন।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন তলিয়ে যাওয়া সড়কের এই অংশটুকু অপেক্ষাকৃত অনেক নিচু। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে রাস্তার এই অংশ পানিতে ডুুবে যায়। আবার পানি হ্রাস পেলে সড়ক ভেসে উঠে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, উপজেলার নি¤œাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে পানি বাড়লেও উপজেলার কোথায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিশ্বম্ভরপুর মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর রহমান জানান, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়েছেন। বিদ্যালয়ে পরীক্ষায় চলায় সমস্যা হচ্ছে বেশি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, বিভিন্ন এলাকার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি ও ঢল নামা অব্যাহত থাকলে দুয়েকদিনের মধ্যে পুরো উপজেলা বন্যা কবলিত হতে পারে। এখন তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকায় কিছু অংশ প্লাবিত হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে ওই সড়কের সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব জানান, পানি বাড়ায় নি¤œাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সুরমা নদীর তীরবর্তী নবীনগর, তেঘরিয়া, জলিলপুর এলাকার কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল হক জানান, তারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েছেন। পানি বাড়লে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রতিটি উপজেলা আপৎকালীন সহায়তার জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া আছে। যেসব এলাকায় বন্যার আশংকা রয়েছে সেখানে শুকনো খাবারও পাঠানো হয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে সেগুলো বিতরণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘ টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে। তবে কোথায় বন্যার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার কয়েকটি উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে ও আজ বৃহস্পতিবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহবান করা হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ‘সুরমা নদীর পানি বাড়ছে, তবে এটা বন্যার মত কোন পরিস্থিতি নয়। বুধবার বিকেল চারটার দিকে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রতি বছরই এই সময়ে নদীর পানি এই স্তরে প্রবাহিত হয়। তবে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ’