নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, নদীতে অবৈধ বোমামেশিন ও ড্রেজার চালানোর অভিযোগের ঘটনা তদেন্তর নির্দেশ দিয়েছেন আলাদত। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ১৫ দিনের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তাহিরপুর) আদালতের বিচারক শুভদীপ পাল প্রথম আলোতে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বুধবার এই আদেশ দেন। গত মঙ্গলবার ‘নদীর পাড় কেটে বালু তোলা বন্ধের দাবি’ শিরোনামে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই দিন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরেও এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন অভিযোগ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ধারায় আমলগ্রহণ করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, অবৈধ বোমামেশিন ও ড্রেজার বন্ধের দাবিতে গত সোমবার তাহিরপুর সদর বাজারে একটি মানববন্ধন হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে এলাকার লোকজনও অংশ নেন।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, বোমামেশিন ও ড্রেজার ব্যবহারের ফলে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ক্ষতি হচ্ছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আশাপাশের কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। এই নদীটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষনীয়। স্থানীয়ভাবে এটিকে ‘রূপের নদী’ বলা হয়। কিন্তু দখল ও দূষণের কারণে নদীর সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় তুলে ধরে সোমবার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সংবাদটি আদালতের নজরে আসে।
আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, এসব অভিযোগ সত্য হলে এটি বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইন অনুযায়ী নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৎস্য, জলজ প্রাণি বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হলে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সে ক্ষেত্রে ওই নদী থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু মা মাটি তোলা যাবে না। আদেশে আরও বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। যাদুকাটা নদীও এই এলাকায় অবস্থিত। যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলন এই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতি করছে। যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ১৫ ধারা অনুযায়ীও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বয়ং যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু, মাটি বা পাথর আইন বহির্ভুতভাবে উত্তোলন হচ্ছে কি-না এবং বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ লঙ্ঘন হচ্ছে কি-না সেটি অনুসন্ধান করবেন। ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা এবং অপরাধ সংঘটনে অভিযুক্তদের ভূমিকাসহ ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান সাক্ষীসহ বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করবেন। তদন্তকারীর কর্মকর্তার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন অভিযোগ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ধারায় আমলগ্রহণ করা হবে।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তাহিরপুর) আদালতের নাজির মো. এনামুল হক।