নদী দখল-দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান

সু.খবর ডেস্ক
নদী দখল ও দূষণ রোধে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নদী ও নগর বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, সময়োপযোগী সুষ্ঠু নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি, কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর যথাযথ হিস্যা আদায়ে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত ‘জাতীয় নদী কনভেনশন’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।
কনভেনশনে জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের প্রতি ১৭ দফা সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে শিল্পবর্জের দূষণ থেকে নদী রক্ষায় শিল্পকারখানায় ২৪ ঘণ্টা ইটিপি চালু রাখা, নদী ভাঙন রোধে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন ও উজানের ৫৪টি নদীর ন্যায্য পানি প্রাপ্তিতে এবং বাঁধ দেওয়া রোধকল্পে যৌথ নদী কমিশনের কূটনৈতিক তৎপরতা ও কর্মকান্ডের পরিধি বাড়ানো, মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসনের সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে নদী খনন, ড্রেজিং এবং বালি ও পলি অপসারণের ব্যবস্থা, বিলুপ্ত বা অর্ধবিলুপ্ত নদী-খাল রক্ষায় প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে পুনরুদ্ধার কমিটি গঠনের সুপারিশ উল্লেখযোগ্য।
কনভেনশন উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে কনভেনশনের দুটি পর্বে বক্তব্য দেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার অপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হাফিজা খাতুন, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক, ডুয়েটের প্রফেসর ড. মো. শওকত ওসমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও হালদা নদী বিশেজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী, জল ও পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট পানি প্রকৌশলী ইনামুল হক, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাছিবুর রহমান, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার লিমিটেডের  নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম, কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কৃষিবিদ ড. আলী আফজাল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসেন রাসেল, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আ. মতিন, জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ কনভেনশন বাস্তবায়ন আন্দোলনের সমন্বকারী হাসনাত কাইয়ুম, রিভারাইন পিপলের সেক্রেটারি জেনারেল শেখ রোকন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘নদী আমাদের মা। নদীকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যেতে হবে। সরকারকে নদী রক্ষায় আরও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহবান জানান তিনি।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক  নজরুল ইসলাম  বলেন, নদী বাঁচাতে হলে আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। শুধু কর্মসূচি ঘোষণা করে থেমে থাকলে হবে না, সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও আলাপ-আলোচনা করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।
আতাহারুল ইসলাম বলেন, নদী রক্ষা আন্দোলনকারীদের কারণে নদী দখল, দূষণের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিও সরকারের জন্য এক ধরনের চাপ। এটি কাজে লাগাতে হবে।