নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জগন্নাথপুরের জনপথ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে কুশিয়ার নদীর ভাঙনে মাত্রচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথপুরের জনপদ। নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে বড় ফেচির বাজার। এরমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ধর্মীয় উপসনালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। কুশিয়ারার ভাঙন রোধে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ’ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এলাকাবাসীর এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে তিন মন্ত্রীর সুপারিশ থাকার পরও তা বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে যায় যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে আশারকান্দি ইউনিয়নে বড়ফেছি এলাকার নদী ভাঙন রোধে তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও নলুয়ার হাওর রক্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর পর সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাব প্রজেক্ট তৈরি করে। কিন্তু প্রকল্প তৈরির ৬ বছর অতিবাহিত হলেও তা আলোর মুখে দেখেনি আজও।
২০১৬ সালের মার্চ মাসের দিকে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান কুশিয়ারা নদী ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরির্দশন করেন। এর পূর্বে বড়ফেচি বাজার প্রাঙ্গণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় নদী ভাঙনের কবল থেকে এলাকা রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দেন তিন মন্ত্রী। পরে তিন মন্ত্রী ভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে সুপারিশ করে সাক্ষর করেন।
এলাকাবাসী জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ, আশারকান্দি ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর তান্ডব চলছে প্রায় ৫০ বছর ধরে। এ নদীর আগ্রাসনে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না, রানীগঞ্জ, আছিমপুর, বালিশ্রী, রৌয়াইল, পাইলগাঁও ইউনিয়নের নতুন কসবা, পূর্ব জলালপুর, কাতিয়া লঞ্চঘাট, আশারকান্দি ইউনিয়নের আটঘর, ছোটফেচি, বড়ফেচি, দ্বিঘলবাক প্রভৃতি গ্রামের সহ¯্রাধিক বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা তলিয়ে গেছে নদী ভাঙনে। নতুন করে আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচি বাজার কুশিয়ারা নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে।
আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল দাস বলেন, কুশিয়ায়া নদীর ছোবলে বড়ফেচি বাজার এখন হুমকির মুখে। এরই মধ্যে গত কয়েক বছরে বাজারের পাকা-দোকানসহ প্রায় দুইশতাধিক দোকানপাট বিলীন হয়েছে। ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের প্রতি আমরা বার বার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
পাইলগাঁও ইউনিয়নের পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহান মিয়া বলেন, প্রতিবছরই কুশিয়ারার করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ঘাট-হাটবাজার, ধর্মীয় উপসনালয়সহ অসংখ্য স্থাপনা। আমাদের মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম,এ মান্নানের প্রচেষ্টায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নদী ভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এটি ৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে হারিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ জনপথ। এরই মধ্যে রানীগঞ্জ বাজারের একাংশসহ অসংখ্য স্থাপনা তলিয়ে গেছে রাক্ষসী নদীর আগ্রাসনে। হুমকির মুখে পড়েছে বাগময়না সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জগন্নাথপুর উপজেলার আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান নাসির উদ্দীন আহমদ বলেন, নদী ভাঙন রোধ ও নলুয়া হাওর রক্ষায় বড়ফেচি বাজার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ’ নির্মাণের প্রকল্পটি এখনও অনুমোদন পায়নি। আমরা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।