নবম বর্ষশুরুর অভিনন্দন- এই পথ চলা যেন শেষ না হয়

এক নিদারুণ বৈশ্বিক দুর্যোগকাল অতিক্রম করছে মানুষ। এক অদৃশ্য ভাইরাস থামিয়ে দিয়েছে সভ্যতার গতি। প্রতি মিনিটে জীবন কেড়ে নিচ্ছে মানুষের। এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক নেই, নেই কোনো ঔষধ। মানুষকে কেবল ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। সংঘ নিরোধের উপদেশ দেয়া হচ্ছে সামাজিক মানব প্রজাতিকে। ভাইরাসের ভয়ে যাবতীয় কর্মকা-কে সীমিত পরিসরের ক্ষুদ্র গ-িতে আটকে দিয়েছে সদা চঞ্চল বিশ্ব। আমরাও আটকাবদ্ধ। স্বাভাবিক চলাচল বঞ্চিত থাকতে থাকতে আমরা হাঁপিয়ে উঠেছি। এমন এক অস্বস্তিকর দমবদ্ধ বিশ্ব বাস্তবতায় আজ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর অষ্টম বছরের অবিরাম পথচলা শেষে নবম বছরে পদার্পন করল। প্রতি বছরই বর্ষপূর্তির সময়টির জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকতাম। বর্ষপূর্তির সুপরিসর রঙিন সংখ্যা প্রকাশ ও অনুষ্ঠানের জন্য আগের দুইটি মাস কাটত আমাদের ভীষণ কর্মচঞ্চল আর উদ্দীপনাময়। এবার সেরকমটি নেই। অনলাইন সুবিধা গ্রহণ করে আমাদের অধিকাংশ কর্মীই সংঘ নিরোধ মেনে বাসায় থেকে কাজ করছেন। একেবারে অপরিহার্য কয়েকজন মাত্র অফিসে উপস্থিত হয়ে পত্রিকা প্রকাশের কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলত পত্রিকার নবম বর্ষশুরু নিয়ে আমরা তেমন করে কোনো পরিকল্পনাই সাজাতে পারিনি। প্রায় নিরবেই আমরা আজ নবম বর্ষে পদার্পন করলাম। নবম বর্ষ শুরুর এই শুভক্ষণে আমরা আমাদের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
বিগত আটটি বছর আমরা পথ চলেছি আপনাদের আনুকূল্য ধন্য হয়ে। আপনাদের তথ্যপ্রত্যাশা পূরণের লক্ষে আমরা বিগত আট বছর কাজ করেছি দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। কখনও সহজ ছিলো না এ কাজ। ছোট মফস্বল শহরে সবসময় অকপটে সত্য বলা কঠিন, কিন্তু আমরা যতটুকু সম্ভব সত্যে অবিচল থাকার চেষ্টা করেছি। এজন্য যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তাদের ভ্রুকুটির তাপ সহ্য করতে হয়েছে। আমরা থামিনি, দমে যাইনি। কারণ আমরা জানি পাঠকরা আমাদের মাধ্যমে সত্য জানতে চান। তাই সত্য জানানোকে আমরা সবসময় আমাদের পবিত্র কর্তব্য জ্ঞান করে এসেছি। কতটুকু পেরেছি সেই মূল্যায়ন করবেন আমাদের সমাদৃত পাঠকরা।
এই বড় বানিজ্য-প্রতিষ্ঠান শূন্য জেলায় বিজ্ঞাপনের সুযোগ নেই বললেই চলে। অথচ পত্রিকার প্রধান আয়ের উৎস বিজ্ঞাপন। বেসরকারি বিজ্ঞাপনের সীমাবদ্ধতা ও গুটিকয়েক সরকারি বিজ্ঞাপনের অর্থ প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যেও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই আট বছর আমরা পত্রিকা প্রকাশ করে এসেছি। যে প্রতিজ্ঞা নিয়ে ২০১২ সনে আমরা এই জেলা থেকে প্রথম একটি নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেখানে কোনো বানিজ্যিক ইচ্ছা ছিলো না। কিছুটা শখ আর বেশির ভাগ দায়বদ্ধতার কারণেই আমরা সীমিত সামর্থ নিয়ে এই কাজ শুরু করেছিলাম। মাঝে মাঝে পরিস্থিতি আমাদের হতাশ করেছে, কিন্তু আমরা প্রতিবারই সেই হতাশা কাটিয়ে উঠেছি। ভবিষ্যতেও কোনো হতাশাবোধ যাতে আমাদের গ্রাস না করতে পারে সেই লড়াইয়েই আমরা নিয়োজিত থাকব। প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি নবম বর্ষপূর্তির এই শুভক্ষণে।
করোনা মহামারীর মহা দুর্যোগের সাথে এই জেলায় এখন যুক্ত হয়েছে বন্যার ধারাবাহিক অত্যাচার। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন বার বন্যাকবলিত হওয়ার পর চতুর্থ ধাপের বন্যাশংকা দেখা দিয়েছে। গতকাল দিনব্যাপী প্রবল বর্ষণ এই শংকা বাড়িয়ে দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সংকুচিত এবং নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বন্যার দুর্ভোগ অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে বেশি হবে। করোনা ও বন্যাশংকা আমাদের বর্ষপূর্তির আনন্দকে আজ বিমর্ষতায় পরিণত করেছে। সময় স্থির থাকে না। সময়ের সাথে জীবন ও জগতের কোনো কিছুই থেমে থাকে না। তাই অন্তরের দহন নিয়েও আমরা চলিষ্ণু থাকার চেষ্টায় নিয়োজিত আছি আপনাদের অবিরাম সমর্থনের জোরে। সামনের অনিশ্চিত সময়ে আমরা আপনাদের এই ভালবাসা ও সমর্থন আরও বেশি করে কামনা করি।
আবারও বর্ষপূর্তি ও নবম বর্ষ শুরুর অভিনন্দন।