নবীন চিকিৎসকদের স্বাগত, মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চাইতে মহৎ কাজ আর কিছু নেই

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫৭ জন নতুন চিকিৎসক পদায়ন করেছে সরকার। এরা সকলেই ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তাঁদের কর্মস্থলে যোগদানের শেষ তারিখ। পদায়িত ৫৭ চিকিৎসকের কতজন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন সেই তথ্য আমাদের কাছে না থাকলেও ধারণা করা যায় অধিকাংশই যোগদান করেছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় যোগদানকারী এই নবীন চিকিৎসকদের আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। একসাথে এত বড় আকারের চিকিৎসক পদায়ন তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সরকার জনগণের ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিসেবা নিশ্চিত করতে যে আন্তরিক এই চিকিৎসক নিয়োগ তার বড় উদাহরণ।
যারা চিকিৎসক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন তাঁদের অনেকেই হয়তো সুনামগঞ্জের অধিবাসী নন। শিক্ষা-দীক্ষায় সার্বিক অনগ্রসরতার কারণে সরকারি চাকুরিতে এই জেলার খুব বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকছে না। ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএসেও সুনামগঞ্জের খুব বেশি চিকিৎসক নিয়োগ পাননি। তবে পদায়িত চিকিৎসকদের সকলেই বাংলাদেশের অধিবাসী। আর ভৌগোলিকভাবে পুরো বাংলাদেশ একই ধরনের আবহাওয়া, জলবায়ু ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। দেশের অপরাপর অংশের মানুষের সাথে এই অঞ্চলের মানুষের কোনো ভিন্নতা নেই। তাই নবীন চিকিৎসকরা যেখানেই পদায়িত হন না কেন তারা কোন ধরনের ভাষিক বা ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা অনুভব করবেন না। একই আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আগত এই চিকিৎসকরা সহজেই নিজ নিজ কর্মএলাকার মানুষের সাথে আত্মস্থ হয়ে যেতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যারা চাকুরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তাঁদেরকে মেধাবী বলেই সকলে চিহ্নিত করা হয়। আর মেধাবী কথার অর্থ কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় অগ্রসর হওয়াকে বুঝায় না। বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানিয়ে চলা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে নিজেকে উর্দ্ধতন অবস্থানে পৌঁছে নেয়াকেও বুঝায়। বাংলাদেশ মানেই গ্রাম। এই দেশের অধিকাংশ মানুষের বাস এখনও গ্রামে। তাই সরকারি কর্মচারীদের গ্রামে পাঠানাটা একেবারেই স্বাভাবিক। গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে যদি এই চিকিৎসকরা সেবাপরায়ণ মনোভাব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন তাহলে তারা নিজেদের মেধাগত অবস্থানকে সকলের কাছে প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন। আমরা আশা করি এই চিকিৎসকরা নিশ্চয়ই কর্মজীবন শুরুর প্রারম্ভে আরোপিত এই দায়িত্ব পালনে সফলতা অর্জন করবেন।
পদায়নের প্রথম দুই বছর কেউই কর্মস্থল পরিবর্তন করতে পারবেন না বলে সরকার নির্দেশনা জারি করেছেন। এই দুই বছরে কেউ অন্যত্র প্রেষণে বা শিক্ষা ছুটিতেও যেতে পারবেন না। তাই ধারণা করা যায়, সামনের দিনগুলোতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো চিকিৎসক সংকট থেকে মুক্তি পাবে। অতীতে আমরা একটা খারাপ অভিজ্ঞতা ঘটতে দেখতাম। গ্রামীণ জনপদে কারও পোস্টিং হলে তদবির বা বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে এরা অল্পদিনের মধ্যেই উন্নত জায়গায় চলে যেতে সক্ষম হতেন। ফলে গ্রামের সরকারি পদগুলোর শূন্যতা কমত না কিছুতেই। এবার চিকিৎসকদের জন্য দুই বছর কর্মস্থল পরিবর্তন করতে না পারার নির্দেশনাটি ওই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের রেহাই দিবে বলে আশা করি। এই আশাবাদ কতটা জোরদার সেটি বুঝা যাবে সময় অতিক্রমণের সাথে। তবে সকালের সূর্য যেমন পুরো দিনের অবস্থা বুঝতে সহায়তা করে তেমনি সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো দেখে আমাদের ভিতর আশাবাদ সঞ্চারিত হয়।
নবীন চিকিৎসকদের প্রতি আমরা শুধু এটুকুই বলতে চাই, আপনারা সকলেই কোনো না কোনো পরিবারের সন্তান। আপনাদের অধিকাংশেরই নাড়ির টান রয়েছে গ্রামের সাথে। তাই আপনারা যেখানেই যে মানুষের দায়িত্ব পালন করুন না কেন সেটিকে নিজের মনে করুন। দেখবেন মনে প্রশান্তি অনুভব করবেন। আপনি সেবা দিয়ে যাদের মুখে হাসি ফুটাতে সক্ষম হবেন তাই হবে আপনার পরম পাওয়া। মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চাইতে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না।