নমুনা সংগ্রহের ১৪ দিন পর করোনা রেজাল্ট!

গোলাম সরোয়ার লিটন
তাহিরপুর উপজেলায় ৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা নেওয়া হয়েছিল গত ২২ এপ্রিল। কোন উপসর্গ না থাকলেও ঢাকা ফেরত হিসাবে তাদের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। আজ দুপুরে পরীক্ষার ফলাফল আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছয়জনের করোন পজেটিভ। তবে এই আক্রান্তদের পাঁচজন ইতিমধ্যেই আবার ঢাকা ফেরত গেছে। উপজেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী এই ছয়জন। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হোমকোয়ারেন্টিন না মেনে এরা অবাধে চলাফেরা করেছে গ্রামে ও বাজারে। এ কারণে স্থানীয়রা ভীত হয়ে পড়েছেন।
স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সুত্র ও গ্রামের বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক জানায়, করোনা পজেটিভদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। নারীদের মধ্যে দুইজনের বয়স ৩০ বছর করে অন্যজনের বয়স ১৮ বছর। আর পুরুষদের বয়স ৪৫, ৩৫ ও ১৬ বছর। এদের সবাই উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের কাউকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। ঢাকা ফেরত এই ছয় জনের কোন উপসর্গ ছিলনা । তবুও গত ২২ এপ্রিল তাদের নমুনা পরীক্ষা নেওয়া হয়। ঢাকা ফেরত এই ছয়জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলা হলেও তারা তা মানেনি। বরং আক্রান্তদের পাঁচ জন চার দিন আগে আবারো ঢাকা ফেরত গেছে। বাড়িতে থাকা আক্রান্তদের একমাত্র সদস্য আজ সকাল থেকে ধানকাটায় ছিল। আজ দুপুরে করোনা পজেটিভ রেজাল্ট আসলে তাকে নিজ ঘরে এনে রাখা হয়।
গ্রামের বাসিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশাহিদ মিয়া বলেন, ওরা কেউ হোম কোয়ারেন্টাইন মানেনি। আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে পাঁচ জন আবার ঢাকা ফেরত গেছে। আরেকজন আক্রান্ত খবর পেয়ে জমির ধানকাটা থেকে তুলে বাড়ি পাঠিয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন এই প্রথম উপজেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলাফল আরো আগে আসা উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী বলেন, পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার ১৪ দিন পর রেজাল্ট আসলো করোনা পজেটিভ। এতে করে আমাদের সব চেষ্টা পন্ড হয়ে যায়। এখন চেষ্টা করছি বিশাল গ্রামটি লকডাউনে নিয়ে আসার।