নলজুর সেতুর এপ্রোচ দ্রুত সংস্কার করা হোক

জগন্নাথপুরের নলজুর নদীর উপর নির্মিত সেতুর এপ্রাচ রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর সংস্কার না হওয়ার বিষয়ে গত দুই মাসে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তদসত্বেও এপ্রোচ সড়ক সংস্কারে কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বিষয়টি সত্যিকার অর্থে দুর্ভাগ্যজনক। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কে ৩৯.১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে নলজুর সেতুটি নির্মাণ করা হয় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে। সেতু নির্মাণের পর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি জটিলতার মধ্যে পড়ে। এলজিইডি যে জায়গার উপর দিয়ে এপ্রোচ সড়কটি করতে চেয়েছিল ওই জায়গার মালিক এতে বাধ সাধেন। তিনি নিজ জায়গা ছাড়তে অসম্মত হন। বিধি মোতাবেক সরকার রাস্তার জন্য ব্যবহৃত ওই জায়গাটুকু অধিগ্রহণও করে নি। এরপর বিকল্প উপায়ে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়। যান চলাচলও শুরু হয় বিকল্প এপ্রোচ ব্যবহার করে। গত ৬ ডিসেম্বর এই বিকল্প এপ্রোচ সড়কটি ধসে যায়। ফলে এই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। উপজেলার রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। তাছাড়া এই রাস্তা দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেগমপুরেও যাওয়া যায়। স্থানীয় উপজেলাবাসীর জন্য সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থের বিষয় এবং এই সড়কের গুরুত্ব অনুধাবন করেই এলাকার সাংসদ অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান নলজুর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয় করে এটি সমাপ্ত করেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সামান্য এপ্রোচ রাস্তার জন্য সেতুটি এবং সড়কটি সর্বসাধারণ ব্যবহার করতে পারছেন না। এটি দুর্ভাগ্যজনক।
প্রথম কথা হলো, যে জায়গার উপর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হবে সেই জায়গাটুকু যদি সরকারি মালিকানাধীন না হয় তাহলে জায়গাটুকু অধিগ্রহণ করতে হয়। জনস্বার্থে কোন জায়গা অধিগ্রহণ করা হলে এখানে কারও আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই। কিন্তু দেখা যায় নলজুর সেতুর এপ্রোচ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা অধিগ্রহণ করেন নি। এই ধরনের উদাসীনতা যেকোন উন্নয়ন কাজের জন্য ক্ষতিকারক। এখন যখন বিকল্প এপ্রোচ সড়কটি ধসে গেল তখন সেটি দ্রুত সংস্কার করা ছিল উচিৎ। কিন্তু সেটি করা হয়নি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছেন, এপ্রোচের এই কাজটুকু করতে টেন্ডার আহ্বানসহ পুরো কাজ শেষ করতে সময় লাগবে। তিনি উপজেলা পরিষদ তহবিল থেকে সংস্কার কাজটুকু জরুরি ভিত্তিতে শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরামর্শটি দুই মাস আগেই দেওয়া দরকার ছিল। আমরা জানি এলজিইডি উপজেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অংশী প্রতিষ্ঠান। এপ্রোচটি যখন ধসে যায় তখনই তারা উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে মেরামত করে রাস্তাটিকে সচল রাখতে পারতেন। এজন্য খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়ত বলেও মনে হয় না। এই ধরনের কাজ উপজেলায় নানাভাবে করা যায়। আমাদের সমস্যা হলো কোন কাজকেই আমরা বিধিগত কিছু আনুষ্ঠানিকতার বাইরে জরুরি হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারিনি। যদি পারতাম তাহলে নলজুর সেতুর এপ্রোচটি দুই মাস ধরে ভাঙা পড়ে থাকত না।
যা হোক জরুরি ভিত্তিতে ওই সেতুর এপ্রোচ সড়ক সংস্কারের জন্য আমরা জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।