নলুয়ার হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ হাওর নলুয়ার হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাওরের সব ক’টি স্লুুইস গেট সংস্কার ও দুটি খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নলুয়ার হাওরপাড়ের কৃষক ও পাউবো সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে নলুয়ার হাওরের কৃষকরা জলাবদ্ধতার সংকটে সময়মতো বোরো আবাদ করতে পারছেন না। কৃষকরা জলাবদ্ধতা নিরসনে আমআমি ও মরণখালি খাল খনন ও আমআমি, ভুরাখালি ও মরণখালিতে পাউবোর দীর্ঘদিনের পুরোনো স্লুুুইসগেটগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।  
সম্প্রতি সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও তোফাজ্জুল হোসেন নলুয়ার হাওরের স্লুইস গেট ও খালগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখে কৃষকদেরকে খাল খনন ও স্লুইস গেট সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।
নলুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দেকুর রহমান জানান, নলুয়ার হাওর জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর হিসেবে বোরো আবাদের জন্য পরিচিত। ওই হাওরের ফসল উত্তোলন করা গেলে দেশের খাদ্য ঘাটতি রোধে ভূমিকা রাখা যায়। হাওরটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রতি বছর পানি নিস্কাশনের পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা সংকটে ভুগেন স্থানীয় কৃষকরা। দ্রুত খাল খনন ও জলকপাট সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া দরকার।  
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জানান, নলুয়ার হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও জলকপাট সংস্কার করার এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা হাওরকে রক্ষায় বেড়িবাঁধের পাশাপাশি এসব কাজ দ্রুত করার দাবি জানাই।   
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস.ও তোফাজ্জল হোসেন জানান, কর্তৃপক্ষের নিদের্শে নলুয়ার হাওরে জলাবদ্ধতার প্রতিবন্ধকতাসৃষ্টিকারী খাল ও জলকপাটগুলো সরেজমিনে দেখেছি। প্রতিবেদন দেয়ার পর অর্থবরাদ্দ হলে কাজ শুরু হবে।  
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নলুয়ার হাওরের জলাবদ্ধতা সংকট স্থায়ী সমাধানে আমরা তিনটি জলকপাট ও দুটি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। সরেজমিন দেখে প্রাক্কলন তৈরী করে দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।



আরো খবর