নলুয়ার হাওরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা পাচ্ছেন না হাওরবাসী

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন না হাওরপাড়ের লোকজন। মাসের অধিকাংশ সময় ক্লিনিকটি বন্ধ থাকে। ফলে চিকিৎসার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বুধবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নলুয়ার হাওর বেষ্টিত উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে।
স্থানীরা জানিয়েছেন, ক্লিনিকের দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা সপ্তাহে এক দুইদিন আসেন। মাসের অধিকাংশ সময়ই ক্লিনিকটি বন্ধ থাকে। ফলে চিকিৎসার জন্য লোকজনকে উপজেলা সদরে যেথে হয়।
জানা যায়, ভুরাখালি কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বরত  তিনজনের মধ্যে দুইজন নিয়োজিত রয়েছেন। তারা হলেন স্বাস্থকর্মী সরজিত দাস ও এডাব্লিউএ (মাঠকর্মী) জয়শ্রী ভট্টাচার্য্য।  
অপরজন হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হরিপদ দাস ২০১৬ সালে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে অন্যত্র চলে যান। এর পর থেকে ওই পদটি শূন্য হয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মী সরজিত দাস ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে এডাব্লিউএ পদে (মাঠকর্মী) জয়শ্রী প্রায় দুই মাস ধরে ক্লিনিকে আসছেন না।  স্বাস্থ্যকর্মী সরজিত দাস মাঝে মধ্যে ক্লিনিকে আসেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।  
ভুরাখালি গ্রামের বাসিন্দা কৃষক শাহাদাৎ মিয়া বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না। মাসের মধ্যে ২০/২৫দিনই ক্লিনিকটি বন্ধ থাকে। ফলে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনবীর দাস      
নান্টু বলেন,‘নলুয়া হাওরপাড়ের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে ভুরাখালি কমিউনিটি ক্লিনিক। অধিকাংশ সময় ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় সুফল পাচ্ছেন না লোকজন। চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে জনসাধারণকে।’
ভূরাখালি ক্লিনিকের বর্তমানে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী সরজিত দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘আজকে (বুধবার) উপজেলা সদরে মিটিং থাকায় ক্লিনিকে যেতে পারিনি।’
তিনি বলেন,‘প্রায় দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সেবার কাজ করতে হয়। এ জন্য অনেক সময় ক্লিনিক বন্ধ তাকে।’
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন,‘ ভুরাখালি ক্লিনিকের সিএইচসিপি পদটি শূন্য রয়েছে। দ্রুত এই পদে নিয়োগ দেয়া হবে। দায়িত্বরত কোন স্বাস্থ্যকর্মী যদি ক্লিনিকে সময় মতো না যান তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’