নাগরিকত্ব ও স্থায়ী বসতি পেলো বেদে সম্প্রদায়

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ^জিত দেব’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জামালগঞ্জে বসবাসরত বেদে সম্প্রদায় পেয়েছে নাগরিকত্ব। তাদের জন্য স্থায়ী বসতিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের সন্তানদের উপবৃত্তি, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ ও পুরুষদের ব্যবসায়ের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলায় সদর ইউনিয়নে ২২টি বেদে পরিবারে ১২০ জন মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে ২২জন সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভোটার হয়েছে। তাদের ছেলে-মেয়েরাও স্কুল, মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বেদে তাদের আদি পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। মুদির দোকান, স্টেশনারী ব্যবসা, ছাতা ও গ্যাস লাইট মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে। ছেলে মেয়ের বিয়ে, সাদী এলাকায় দিয়ে তারা স্থানীয় মানুয়ের সাথে পারিবারিক বন্ধনও গড়ে তুলছেন।
জানা যায়, ৩০ বছর আগে বেদে সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো মধ্যনগর ও নেত্রকোনা থেকে জামালগঞ্জে আসে। উপজেলা সদরের জামালগঞ্জ সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নদীর তীরে নৌকায় এবং অস্থায়ী ছাপড়া ঘর তৈরী করে বসতি স্থাপন করে।
বেদে মেয়েরা চুড়ি ও কাচের জিনিষপত্র গ্রামে গ্রামে বিক্রি করতো। পুরুষেরা ছাতা সেলাই, ম্যাচলাইট মেরামত, হারানো সোনা রুপার গহনা তোলসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। স্থায়ী বসতি করার জন্য বর্তমানে তাদের সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে ২২টি পরিবারকে ১২ শতক করে সরকারি খাস জায়গা দেয়া হয়েছে।
বেদে সর্দার মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমার অধিনে ২২টি পরিবার রয়েছে। তারা সবাই আমাকে মেনে চলে। আমাদের বড় শক্তি হচ্ছে ঐক্য। আমরা একতাবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করি। আমাদের এখানে পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশী পরিশ্রম করে।
তিনি বলেন, মানুষ আর আগের মত আমাদের ঝাড়ফুক বিশ^াস করে না। তাই অনেকেই বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বেদে পরিবারের ৭২জন জামালগঞ্জে ভোটার হয়েছে। গত ইউপি নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। এবছর ভোটার হালনাগাদ এর সময় অনেকেই নতুন ভোটার হওয়ার জন্য অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে ইউএনও বিশ^জিত দেব স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। কোন দিন আমাদের ঠিকানা ছিল না। তিনি আমাদেরকে সোনাপুর গ্রামে ২২টি পরিবারকে ১২ শতক জায়গায় ছয় লক্ষ টাকার মাটি ভরাট করে দিয়েছে। এতে আমরা এখন দেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশী বাড়িরও মালিক হয়েছি। এছাড়াও একটি পানির টিউবওয়েল ও একটি গণশৌচাগার করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ^জিত দেব বলেন, বেদে সম্প্রদায়ের জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। তাদের স্থায়ী করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের প্রতিটি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ১২ শতক ভূমি সহ মাটি ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তি, সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ ও পুরুষদের ব্যবসায়ের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়েছে। তাদের সামাজিক ও শিক্ষার মানউন্নয়নে সরকার কাজ করছে।