নান্দাইলে নারীদের মুষ্ঠির চালের দুর্গাপূজা

সু.খবর ডেস্ক
সাধারণত পুরুষদের আয়োজনে দুর্গাপূজা হলেও নারীদের উদ্যোগে পূজা খুবই বিরল। তবে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাগরণী সংঘের ৭০ জন নারী সদস্য নিজেরাই পূজার সকল আয়োজন করে আলোচনায় এসেছেন। কেবল মুষ্ঠির চাল সংগ্রহ করেই তারা এ পূজার আয়োজন করে থাকেন। প্রতি বেলা রান্নার সময় আলাদা করে এক মুষ্ঠি চাল সংগ্রহ করে রাখতেন। পুরো এক বছর ধরে চাল জমানোর পর তা বিক্রি করে চাঁদা দিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন তারা। এবার চতুর্থ বারের মতো তারা এভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছেন। যা দেখতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন। মণ্ডপটি আকর্ষণের কেন্দ্রতে পরিণত হয়েছে।
রোববার দুপুরে নান্দাইল পুরাতন বাজারে উপজেলা ভূমি অফিসের পাশে স্বপন সাহার বাসায় গিয়ে দেখা যায় সুন্দর ও পরিপাটি মণ্ডপে জাগরণী সংঘের প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। সর্বত্রই সাজগোছে রয়েছে নান্দনিকতার ছাপ। প্রবেশ পথ উপজেলা ভূমি অফিসের সামনের সড়কে বানানো হয়েছে সুদৃশ্য তোরণ। দর্শনার্থীদের অবস্থানের জায়গায় টানানো হয়েছে সামিয়ানা। বাজছে ঢাকের বাদ্য বাজনা। গত শনিবার সন্ধ্যায় ষষ্ঠী পূজা’র মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সপ্তমী পূজার দিনেই নারীদের আয়োজনে এ পূজার প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

জাগরণী সংঘের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী সাহা বলেন, ‘পাঁচ বছর পূর্বে বাজারের আমরা কয়েকজন গৃহবধূ চিন্তা করলাম, পুরুষরা যদি দুর্গাপূজার করতে পারে তাহলে আমরা নারীরা কেন আলাদাভাবে একটি পূজার আয়োজন করতে পারবনা। এ চিন্তা থেকেই আমরা জাগরণী সংঘ নামে একটি সংগঠন তৈরী করি। এ সংঘের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৭০ জন। তারা সবাই নান্দাইল বাজার বা আশেপাশের কারো স্ত্রী, কারোর মেয়ে বা বোন। এ পূজায় অনেক টাকা খরচ করতে হয়। একসাথে কারোর পক্ষেই এত বেশি টাকা দেওয়া সম্ভব হয়না। তাই প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে চাঁদা দেওয়া শুরু করি। তবে যাদের সামর্থ্য নেই তারা দেন প্রতিমাসে ৫০ টাকা বা তারও কম।
তিনি আরও বলেন, সদস্যদের মধ্যে অনেকেই প্রতিদিন ভাত রান্নার চাল থেকে এক মুঠো করে চাল রেখে দেন। পরে সে জমানো চাল বিক্রি করেও এ পূজার জন্য চাঁদা দিয়ে থাকেন। বছর শেষে সকলের চাঁদার পাশাপাশি লোকজনের কাছ থেকে কিছু চাঁদা উঠানো হয়। তাছাড়া সরকার থেকেও কিছু সাহায্য পাই আমরা। এসব দিয়েই আমরা পূজার আয়োজন করে থাকি।
জাগরণী সংঘের সভাপতি মিতু দত্ত বলেন, ‘আমাদের এ আয়োজনের সবকিছুই আমরা গৃহবধূরা করি। সাজানো গোছানোর কাজও অত্যন্ত যত্নের সাথে করে থাকি। পূজার তিনদিন সন্ধ্যায় এখানে ভক্তিমূলক গানের আয়োজন করা হয়। এ কারণে আমাদের এ মণ্ডপে ভিড় বেশি থাকে। আমরা চাই অন্যান্য নারীরাও আমাদের মতো এগিয়ে আসুক।
নান্দাইল বাজারের ব্যবসায়ী অধ্যাপক অরবিন্দ পাল অখিল বলেন, আমরা পুরুষরা একত্রিত হয়েও যে কাজটি সহজে করতে পারিনা সেখানে বাজারের গৃহবধূরা একত্রিত হয়ে সে কাজটি করে যাচ্ছে, এ জন্য তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নান্দাইল উপজেলা শাখার সভাপতি ধীমান কুমার সরকার বলেন, জাগরণী সংঘের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। গৃহবধূদের আয়োজনে দুর্গাপূজার আয়োজন, সেটা দেখার জন্যই প্রতিবছর দূর থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন।
সূত্র : সমকাল