নিখোঁজ সিএনজি চালক সাকির উদ্দিনের হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার

দ. সুনামগঞ্জ অফিস ও বিশেষ প্রতিনিধি
নিখোঁজ থাকার দুইদিন পর সিএনজি চালক সাকির উদ্দিনের (১৮) হাত বাঁধা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের উজানীগাঁও গ্রামের পশ্চিমে সুরমা নদী থেকে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তবে শুক্রবার রাত ৯ টা পর্যন্ত তার সিএনজিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সাকির উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের টুকেরগাঁও গ্রামের সিকন্দর আলীর ছেলে। তিনি গত ১১ জুলাই বুধবার গভীর রাতে সিএনজিসহ নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তার বড় ভাই আশিক নূর।
জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের উজানীগাঁও গ্রামের পশ্চিমে সুরমা নদীরপাড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির হাত বাঁধা লাশ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। লাশের দুই হাত পেছনে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। লাশের মুখমন্ডলে, গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।
এদিকে সিএনজি চালক সাকির উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার সাথে সুনামগঞ্জ শহরের একটি গাড়ি ছিনতাই চক্র জড়িত বলে অভিযোগ করছেন তার বড় ভাই আশিক নূরসহ একাধিক লোকজন।
তাদের দাবি এই গাড়ি ছিনতাই চক্রের সাথে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সিলেটের কিছু লোক জড়িত। সংঘবদ্ধ এই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা সুনামগঞ্জ শহর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও সিলেটে অবস্থান করে। সুযোগ বুঝে অপেক্ষাকৃত কম বয়সের চালক ও নতুন গাড়ি দেখে টার্গেট করা হয়। যাত্রী সেজে ভাড়া নিয়ে ছিনতাইয়ের ফাঁদে ফেলে গাড়ি ছিনতাই করে চক্রটি।
নিহত সাকির উদ্দিনের বড় ভাই আশিক নূরের দাবি, শহরের মল্লিকপুরের মাসুম ও বিশ্বম্ভরপুরের রনি তার ভাই সাকির উদ্দিনকে খুনের সাথে জড়িত। মাসুম বুধবার রাতে আব্দুজ জহুর সেতুর উপর থেকে সাকিরের সিএনজি ভাড়া নিয়েছিল। এরপর থেকে সাকির উদ্দিন নিখোঁজ ছিল। সদর থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার মাসুমকে আটক করেছিলেন, কিন্তু পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। মাসুমই এই ঘটনার মুল হোতা। তাকে ভাল করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে খুন ও সিএনজি ছিনতাইয়ের পুরো ঘটনা জানা যাবে। কারণ সে পুলিশের সামনে স্বীকার করেছে বুধবার রাতে একটি সিএনজি নিয়ে গরু চুরিতে গিয়েছিল সে। কিন্তু গরু চুরি করতে পারেনি। তবে, আমরা জেনেছি এই রাতে বিশ্বম্ভরপুরের বাঘবেড় এলাকার এক চালককে রোগী দেখতে যাওয়ার কথা বলে সিএনজি ভাড়া করেছিল। এরা ছাতক থেকে ফিরে এসেছে। বাঘবেড়ের চালক ছিনতাইয়ের বিষয়টি টের পেয়ে কোনরকমে পালিয়ে এসেছিল। এর পরপরই মাসুমের চক্রটি আমার ভাইয়ের সিএনজিটি ভাড়ার কথা বলে নিয়ে যায় এবং তাকে খুন করে পানিতে ফেলে দেয় ও সিএনজিটি ছিনতাই করে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘ উদ্ধারকৃত লাশের গায়ে বেশ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করবে। ’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ সাকির উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, লাশের শরীরের নানা স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুই হাত পাটের রশি দিয়ে পেছনে বাঁধা ছিল। কপাল, হাত, পা, মুখ, নাক, কান, গলা, বুক, পেট ঠোটসহ প্রায় সারা শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলার চারপাশ ও মুখমন্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাকির উদ্দিনকে হত্যা করে তার লাশ পানিতে ফেলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন,‘ নিখোঁজ সিএনজি চালকের ভাই থানায় একটি জিডি করেছেন। সেই জিডির প্রেক্ষিতে মল্লিকপুর থেকে মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে বুঝা যাচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা এলাকায়, সেখানেই মামলা হবে। তবে নিহতের বাড়ি সদর থানায় হওয়ায় ও ঘটনার সাথে এই এলাকার কেউ জড়িত থাকলে পুলিশ অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করবে। ’