নিজেদের বড় মানুষ হিসাবে প্রমাণ করার সময় এখন

৩৭তম বিসিএস’এ জেলার ৭ মেধাবীর ক্যাডার সার্ভিসে মনোনীত হওয়ার আনন্দদায়ক একটি খবর ছাপা হয় ঠিক ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পত্রিকা বন্ধের আগের দিন। ঈদের আনন্দের সাথে এই খবরটি আমাদের কাছে প্রভূত পরিমাণে খুশির বিবেচিত হয়েছিল। কারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকুরির এই সুযোগ যারা পান তাঁরা নিঃসন্দেহে মেধাবী ও ভাগ্যবান। আমরা ৭ জনের সুযোগ পাওয়ার খবর ছেপেছি বটে কিন্তু এর বাইরেও আরও তরুণ তরুণী থাকতে পারেন যাঁরা বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েছেন কিন্তু আমাদের সংবাদকক্ষে সেই খবর পৌঁছায়নি। সরকারি সেক্টরে চাকুরির সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বেসরকারি সেক্টরে এই সুযোগ সম্প্রসারিত না হওয়ায় এখন চাকুরি প্রত্যাশীদের কাছে বিসিএস হলো সোনার হরিণের মতো বিষয়। সকল শিক্ষিত মেধাবী এই সুযোগ পান না। যাঁরা পান তাই তাঁরা বিশেষভাবেই পরিচিত হন আমাদের সমাজে। যেমন করে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের অন্যতম সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন এই ৭ তরুণ তরুণী। এই মেধাবীসহ আরও যাঁরা এবার বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি চাকুরিতে যোগদানের আগে আরও কিছু আবশ্যকীয় পরিপালনীয় ধাপগুলো তাঁরা সফলভাবে অতিক্রম করে প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে যোগদান করতে সক্ষম হবেন।
এখন কথা হলো, যে কারণে এই মেধাবীদের চাকুরি পাওয়ার খবরে আমরা আনন্দে উদ্বেলিত হই তাঁরা কি সেই আশাবাদ পূরণ করতে সক্ষম হবেন? হাওর অধ্যূষিত এই ভাটি সুনামগঞ্জের কম সংখ্যক লোকই সরকারের উচ্চ পদে আসতে পারেন। শিক্ষায় অনগ্রসরমাণতা এর অন্যতম অনুঘটক। তবে গত দুই বা তিন বছর যাবৎ আমরা লক্ষ্য করছি বিসিএস’এ আমাদের বেশ কিছু তরুণ তরুণী বিভিন্ন ক্যাডারে চাকুরি পাচ্ছেন। এই মেধাবীরা প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগদান করে এবং পরবর্তীতে আরও উচ্চতর পদের দায়িত্ব পালন করে একদিকে তাঁরা যেমন নিজেদের পেশাগত জীবন পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন তেমনি এঁরা এই পদে থেকে জনসেবা করারও দুর্লভ একটি উপলক্ষ্য পেলেন। নিজেদের পদের দায়িত্ব পালনজনিত সুকৃতির মধ্য দিয়ে জেলা সুনামগঞ্জের সুনাম বজায় রাখার গুরুদায়িত্বও একই সাথে এঁদের কাঁধে চেপেছে। যদি তাঁরা সেটি করতে সক্ষম হন তাহলেই প্রকৃত পক্ষে আমাদের এই আনন্দের প্রতিদান দেওয়া হবে। আর সেটি না করে যদি চাকুরি প্রাপ্তরা গড্ডালিকাপ্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে আত্মস্বার্থ সিদ্ধির ধান্দায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাহলে আমরা নিশ্চয়ই মর্মাহত হব। আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতি এখনও নানা ধরনের দুর্নাম আক্রান্ত হয়ে আছে বলেই এই আশংকা। আশা করি বিসিএস উত্তীর্ণরা আমাদের আশার উপযুক্ত প্রতিদান দিতে সক্ষম হবেন।
যেসব পরিবার থেকে তাঁরা উঠে এসেছেন সেই শিকড়ের দিকে সর্বাবস্থায় তাঁদের টান থাকতে হবে। টান থাকতে হবে লাখো শহীদের রক্তে ভেজা এই দেশটির জন্য। দেশ ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ বজায় রেখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারলেই এঁরা সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হবেন। আর শিকড়কে ভুলে গেলে মানুষের মূল্যায়নে তাঁদের অবস্থান হবে অশ্রদ্ধার জায়গায়। বড় জায়গায় গিয়ে তাঁদের নিজেদের বড় মানুষ হিসাবে প্রমাণ করার সময় এখন। এই বড় মানুষ হওয়ার নিরন্তর প্রয়াসে তাঁদের জন্য আমাদের অন্তহীন শুভকামনা।