নিজ বাড়িতে এক বছর সাজা খেটে উপহার পেলেন গাছের চারা

স্টাফ রিপোর্টার
মাদক আইনে একটি মামলায় রায়ে এক বছরের সাজা হয়েছিল সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাসননগর এলাকার বাসিন্দা মো. নুর উদ্দিন সেলিমের (৩৮)। আদালত তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে নিজ বাড়িতে থেকে এই সাজাভোগের আদেশ দেন। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আদালতের আদেশে তিনি চূড়ান্তভাবে মুক্ত হয়েছেন। একইসঙ্গে জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রোপনের তাকে তিনটি গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে আদালত ও প্রবেশন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে। সুনামগঞ্জে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এনামুল হক জানান, নুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা ছিল। এই মামলায় গত বছরের ১০ এপ্রিল তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পাল। কিন্তু তাকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। আদালতের বিচারক তাকে সংশোধনের জন্য জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে নিজ বাড়িতে থেকে এই সাজাভোগের আদেশ দেন। ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুরো এক বছর থেকে নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলেন। তার প্রবেশনের নির্ধারিত সময় শেষ হয় চলতি বছরের ১০এপ্রিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রবেশন কর্মকর্তা ভার্চুয়ালি আদালতে ওই আসামিকে চূড়ান্তভাবে মুক্তি দিতে আবেদন করেন। এই আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত নূর উদ্দিনকে চূড়ান্তভাবে মুক্তি দেন। একই সঙ্গে প্রবেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনটি ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপনের জন্য উপহার দেওয়া হয়। ‘দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অরডিন্যান্স ১৯৬০’ আইনে সুনামগঞ্জে বিচারিক আদালতের এটিই প্রথম কোনো মামলার সফল প্রয়োগ বলে জানান আদালতের নাজির এনামুল হক।
পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার খবরে খুশি মো. নূর উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ। বিদ্যুতের কাজকাম করে ছয়জনের সংসার চালাই। আমি জেলে গেলে পরিবারের অন্যদের না খেয়ে থাকতে হত। আদালতের দয়ায় জেল থেকে রক্ষা পেয়েছি। আদালতের প্রতিটি আদেশ এই এক বছর পালন করেছি। আমি আর কখনো কোনো অপরাধ করব না।
জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান বলেন, নুর উদ্দিনের প্রবেশনকালীন সময়ে শর্ত ছিল তিনি জেলার বাইরে যেতে পারবেন না। পরিবার, প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকবেন, আর কোনো অপরাধে জড়াবেন না। নিয়মিত প্রবশেন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। তিনি সব শর্ত মেনেছেন। তার পরিবার, প্রতিবেশী সবাই বলেছেন, তিনি সংশোধন হয়েছেন। তাই আদালত তাকে চূড়ান্তভাবে মুক্ত করে দিয়েছেন।