নিদাহাস কাপের ট্রফি দেখতে চাই সোনার ছেলেদের হাতে

স্নায়ুক্ষয়ী টানটান উত্তেজনা শেষে শুক্রবার রাতে শ্রীলংকার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে নিদাহাস কাপ টি ২০ ক্রিকেট ম্যাচের অঘোষিত সেমিফাইনালে বাংলাদেশ শ্রীলংকার বিরুদ্ধে শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে ফাইনালে স্থান করে নেয়। আজ একই স্টেডিয়ামে তাঁরা মুখোমুখি হবে ভারতের। শুক্রবারের খেলাটি শ্রীলংকার ইনিংসের প্রথম ১০ ওভার পর্যন্ত একেবারেই বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল। সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তনের বাংলাদেশ শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে। শ্রীলংকা প্রথম ৮.১ ওভারেই পাঁচ পাঁচটি উইকেট খুইয়ে যখন মাত্র ৪১ রান করতে সক্ষম হয় তখন অতিবড় কল্পনাবিলাসীও ভাবতে পারেননি এই দলটি শেষ পর্যন্ত লো-স্কোরিং উইকেটে ১৫৯ রানের একটি ফাইটিং স্কোর গড়ে তুলতে পারে। প্রতিপক্ষের হোমগ্রাউন্ডের উইকেটে ১৫৯ রান তাড়া করা চাট্টিখানি কথা নয় । দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ যখন ব্যাটিং শুরু করে তখন কিন্তু এই কাজকে কঠিন মনে হতে দেননি বাংলাদেশী টপ ও মিডিল অর্ডার। যদিও লিটন দাস ও সাব্বির হোসেন কার্যকর কোন অবদান না রেখেই বিদায় নেন তারপরও তামিমের দৃঢ়তার কাছে ম্যাচটি অনেক সহজই মনে হচ্ছিল । রানরেটের চাইতে খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ। কিন্তু এই সহজ ম্যাচটিই অতিশয় কঠিন হয়ে উঠে শেষ প্রান্তে এসে। মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান অল্প রানে আউট হলে রীতিমত পরাজয়ের শঙ্কায় কেঁপে উঠে বাংলাদেশ শিবির। অবস্থা এমন দাঁড়ায় শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৩ রান। তখন একমাত্র ভরসা, উইকেটে রয়েছেন দলের সবচাইতে কোলহেডেড খেলোয়াড় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সেই সময়েই আসল চরম নাটকীয়তা । যে নাটকীয়তার কথা শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটেই নয় বরং বিশ্বক্রিকেটেও আলোচিত হবে দীর্ঘদিন। কী হয়েছিল তখন? শেষ ওভারে বল করছিলেন উদানা। প্রথম বলটিই দিলেন বাউন্সার। দ্বিতীয়টিও ছুঁড়লেন বাউন্সার। দ্বিতীয়টি প্রথমটির চাইতে একটু উঁচু দিয়েই যেতে দেখা গেছে টিভি রিপ্লেতে। বাইলজ অনুযায়ী টি ২০ খেলায় এক ওভারে একটির বেশি বাউন্সার করা যায় না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আম্পায়ার এখানে নো-বল কল করেননি। সংগত কারণেই শেষ ওভারে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জায়গায় এসে এমন দৃষ্টিকটু পক্ষপাতিত্ব নিয়ে আপত্তি জানান ক্রিজে থাকা সিনিয়র খেলোয়ার মাহমুদুল্লাহ। আম্পায়ার আপত্তিতে কর্ণপাত করেননি। এদিকে মাঠের বাইরে দলপতি সাকিব ব্যাখ্যা চান থার্ড আম্পায়ারের কাছে। থার্ড আম্পায়ারও ভ্রƒক্ষেপহীন থাকেন। চরম আবেগাক্রান্ত সাকিব ক্রিজের ব্যাটসম্যানদের মাঠের বাইরে চলে আসার ইশারা দেন। যদি ব্যাটসম্যানরা বেরিয়ে আসতেন তখন, তাহলে চরম সর্বনাশটি ঘটে যেত বাংলাদেশ ক্রিকেটের। এক, কঠিন হলেও জয়ের সম্ভাবনা তিরোহিত হত। অন্যটা হলো, এর কারণে আইসিসির শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার শিকার হত বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দলীয় ম্যানেজার সুজনের হস্তক্ষেপে ব্যাটসম্যানরা ক্রিজে ফেরৎ যান। আর এরপরই মাহমুদুল্লাহ ক্রিকেটবুকে লিপিবদ্ধ করেন এক অমর মহাকাব্য। সমীকরণটা ছিল এমন, শেষ চার বলে দরকার ১২ রান। আম্পায়ারদের পক্ষপাতিত্বের জবাব মাহমুদুল্লাহ মুখে বা শারীরিক ভাষায় না দিয়ে ব্যাটের ভাষায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ততক্ষণে নিয়ে রেখেছিলেন বোধ করি। ফল দাঁড়ালো, তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে দুই আর পঞ্চম বলে ছয়। এক বল বাকি থাকতেই নিদাহাস কাপের ফাইনালে পৌঁছে যাওয়া। অভিনন্দন সোনার ছেলে মাহমুদুল্লাহ।
আজ ভারত-বাংলাদেশ ফাইনালে আমরা দলের এমন আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়ী খেলা দেখতে আগ্রহী। নিদাহাস ট্রফিটি বাংলাদেশের একান্ত পাওনা হয়ে গেছে যে। শুভকামনা টাইগার্স।