- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার চারটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ৪১৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। পৌর শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত চারদিন থেকে সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে বেশি। এতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সুরমা নদীর তীর উপচে পানি প্রবেশ করেছে শহরের মাছ বাজার, সবজিবাজার, উকিলপাড়া, সাহেববাড়ি ঘাট, বড়পাড়া, কাজীর পয়েন্ট, ওয়েজখালী এলাকায়। এ সময় এলাকায় সড়কের ওপর কোথায় হাঁটু পানি দেখা গেছে। এ ছাড়া শহরের কালীবাড়ি, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর কলোনী, পুর্ব নতুন পাড়া, জামতলা এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন।
এ ছাড়া ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা বাজার ও আশপাশের এলাকা। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কলাগাঁও ও আশপাশের এলাকার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী জানিয়েছেন, তার উপজেলায় পানি বাড়ছে। নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য একটি মনিটরিং সেল খোলার চিন্তা করছেন তারা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে সকালে হাঁটু সমান পানি ছিল।
উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী জানান, যেভাবে পানি বাড়ছে, এভাবে যদি আরও একদিন বাড়ে, তাহলে উপজেলায় বন্যা হয়ে যাবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী বোগলাবাজার, বাংলাবাজার ও নরসিংহপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জানান, উজান থেকে ঢল নামছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণে পানি বাড়ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে ব্যাপক পরিমাণে ঢল নামার কারণেই সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। তবে বৃষ্টি থামলে পানি কমতে পারে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব স্থানে সুরমা নদীর পানি তীর উপচে প্রবেশ করেনি। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে, তাতে এত পরিমাণ বৃষ্টির পানি ধারণ করার ক্ষমতা নেই। এ কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেছেন, বৃষ্টি হচ্ছে, উজান থেকে ঢলও নামছে যে কারণে পানি বাড়ছে। তবে এখনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তবে বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা হতে পারে। আমরা এ বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সব উপজেলায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • [১]