নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী নিয়োগে জনমনে স্বস্তি

হোসেন তওফিক চৌধুরী
মহান জাতীয় সংসদের একাদশ নির্বাচন দোড়গোড়ায়। আর মাত্র ৫ দিন, পরেই কাঙ্খিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটকেন্দ্র ও ভোট গ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভোটগ্রহণের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে গতকাল সোমবার ২৪ শে ডিসেম্বর সারাদেশে সেনাবাহিনী নিয়োগ হয়েছে। আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী থাকবে। সেনাবাহিনী নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মাঝে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইতোমধেই প্রায় সকল মহল সেনাবাহিনী নিয়োজিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিগত কিছু দিনের নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা নিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপ সংগঠিত হওয়ায় জনমনে এক ধরণের শঙ্কার উদ্রেক হয়। সেনাবাহিনী নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব নেওয়ায় মানুষের মন থেকে এ ধরণের শঙ্কা দূর হয়েছে। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তবে সাধারণ মানুষ বলছেন সেনাবাহিনী আরো আগে নির্বাচনী মাঠে নিয়োগ হলে কোন বিশৃঙ্খল ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটত না। শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করতো এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনেই প্রচার প্রচারণা চালাতে পারতেন। মানুষের মাঝেও স্বতস্ফূর্ততা ও অভূতপূর্ব টানটান উত্তেজনা দেখা দিতো। নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান প্রয়োজন সর্বাধিক। মানুষ যখন বুঝবে শান্তিপূর্ণভাবে ‘আমার ভোট আমি দেবো’ এবং ‘যাকে খুশি তাকে দেবো’ তখন মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে। তাহলেই নির্বাচন হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচন অনিশ্চিত ব্যাপার। নির্বাচনে কি হয় না হয় আগাম বলা দূরূহ। স্লোগান, সভা, সমিতি, মিছিল এবং জবরদস্তিমূলক কার্যকলাপ নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত ও নস্যাৎ করেন এবং গোটা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে। আমাদের দেশের মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে। আশা করে নির্বাচনে যেনো সত্যিকারের আশা-আখাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে। মানুষ এজন্য অধীর অপেক্ষায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রহর গুণছে। সেনাবাহিনীর সুনাম রয়েছে। ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাদের সরব ও কার্যকরী উপস্থিতিতে নির্বাচনী পরিস্থিতি থাকবে অনুকূলে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে দেশবাসী দৃঢ় প্রত্যাশা ও আশাবাদ রাখে।
লেখক : আইনজীবী-কলামিষ্ট।