নির্বাচন কমিশনের তদন্ত দল আসছে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় গত ২৯ মার্চের মেয়র পদের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নির্বাচন কমিশন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি আগামি ১৫ এপ্রিল সুনামগঞ্জে আসবেন। তিন সদস্যের ওই কমিটি দুইদিন সুনামগঞ্জে অবস্থান করে এ বিষয়ে তদন্ত করবে।
এদিকে ভোট গ্রহণে অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল মোতালেবকে সুনামগঞ্জ থেকে ফরিদপুরে তাৎক্ষণিক বদলি (ষ্ট্যান্ডরিলিজ) করা হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার নতুন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সুনামগঞ্জ ছেড়েছেন।
কী কারণে তাঁকে বদলি করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল মোতালেব বলেন,‘পৌরসভার উপনির্বাচন ছাড়া তো আর কোনো কারণ দেখি না। আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। তবে ভোটগ্রহণকালে সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমি মঙ্গলবার নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে সুনামগঞ্জ ছেড়েছি। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করব।’
আবদুল মোতালেব জানান, উপনির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই, স্থগিত কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের অভিযোগসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামি ১৫ এপ্রিল সুনামগঞ্জে আসবে। তখন উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তিনিও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব (আইন) মো. সেলিম মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব শাহ আলম, সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলা উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখত জগলুল গত ১ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর গত ২৯ মার্চ মেয়র পদের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত মেয়র আয়ূব বখত জগলুলের ছোট ভাই নাদের বখত, বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী, মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন দেওয়ান গণিউল সালাদীন।
নির্বাচনে জয়ী হন নাদের বখত। তিনি পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৫২ ভোট। তাঁর নিকটতম দেওয়ান গণিউল সালাদীন মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৮৫ ভোট। বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৮০৭ ভোট।
ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকাল তিনটায় সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্র দখল, কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া, জালভোট প্রদানসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন। তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুননির্বাচনের দাবি জানান। একই অভিযোগে বিকাল সাড়ে তিনটায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। বিএনপির এই নির্বাচনকে ‘নাটক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
ভোট গ্রহণ চলাকালে শহরের কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯০০ ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন থেকে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণার পরও ভোট নেওয়া হয়। একইভাবে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে শহরের উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রের আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ভোটের দিন বিকেলে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ ছিল, শহরের সব কেন্দ্রে দখল ও জালভোটের ঘটনা ঘটেছে।
অবশ্য এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির বলেছিলেন, দুয়েকটি কেন্দ্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। নির্বাচনে জিততে না পেরে পরাজিত প্রার্থীরা এখন নানা ভিত্তিহীন কথা বলছেন।