নির্মাণাধীন ঘাট ভেঙে আহত হলেন ২ জন

স্টাফ রিপোর্টার
এডিবি প্রকল্পের অর্থায়নে জামালগঞ্জে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণাধীন পাকা ঘাট হাওরের পানিতে ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভেঙে পড়া ঘাটসহ দুইটি পাকাঘাট নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকা।
গত শনিবার বিকালে উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের আছানপুর গ্রামের মসজিদের ঘাটটি ভেঙে হাওরের পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ ঘাট নির্মাণ কাজ দুর্বল হয়েছে, তাই ঘাটের উপর মাত্র ২০-৩০ জন মানুষ উঠায় সেটি ভেঙে গেছে।
তবে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ও ঘাটের ঠিকাদার দাবি করেছেন, ঘাটের কাজ শেষ হয়নি। নির্মাণাধীন অবস্থায় শতাধিক মানুষ উঠে পড়ায় এটি ভেঙেছে।
ঘাট ভেঙে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, আছানপুর গ্রামের উমদপুর হাটির ঈমান আলীর ছেলে সাদিজুর রহমান মোড়ল (৩৫) ও একই গ্রামের আব্দুল কদ্দুছের ছেলে জুনেল মিয়া (২৩)। আহতের দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রামের আরো কয়েকজন আহত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। একাধিক লোকজন জানান, গত শনিবার স্থানীয় সংসদ সংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বিকালে আছানপুর গ্রামের মুহিবুর রহমানের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন। যাওয়ার সময় তিনি গ্রামের মসজিদের ঘাট দিয়ে স্পিট বোটে উঠেন। সংসদ সদস্যকে বিদায় জানানোর সময় গ্রামের কিছু মানুষ (২০-৩০) ঘাটে যান। সংসদ সদস্য স্পিট বোটে উঠার পরপরই ঘাটটি ভেঙে পড়ে। এতে ঘাটে থাকা লোকজন পানিতে পড়ে যান। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হন, তবে দুইজন পায়ে গুরুতর আঘাত পান। সাদিজুর রহমান মোড়ল ও জুনেল মিয়ার পায়ের আঙ্গুল ভেঙে যায় ও জখম হন। তাদেরকে তাৎক্ষণিক জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আছানপুর গ্রামের বাসিন্দা বেহেলী ইউপি সদস্য মো. সুফিয়ান বলেন,‘ এমপি মহোদয় গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার সময় কিছু মানুষ মসজিদের ঘাটে উঠেছিলেন, হঠাৎ করে ঘাটটি ভেঙে পানিতে পড়ে যায়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। দুইজন পায়ে বেশী আঘাত পেয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েক মিনিট পড়ে ঘাটটি ভাঙলে এমপি মহোদয়রেও আহত হওয়ার শংকা ছিল। তিনি স্পিট বোডে উঠার পরপরই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
ইউপি সদস্য আরো জানান, মনে হয় কাজটি সঠিকভাবে হয়নি, কাজে দুর্বলতা ছিল। কারণ ঘাটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল, শুধু শেষের কিছু কাজ বাকী ছিল। ঘাটের কাজের বাঁশের খুঁিট সরানো হয়েছিল। ভাল ও মজবুত করে কাজ করলে এভাবে ভেঙে পড়ার কথা না।’
ঘাট নির্মাণকারী ঠিকাদার সায়েম পাঠান বলেন,‘ঘাটের কাজ শেষ হয়নি, একদিকের পাকার ঢালাই হয়েছে অন্যদিকে হয়নি। এখন নিচে বাঁশ লাগানো রয়েছে। কিন্তু শনিবার গ্রামের প্রায় ১৫০ মানুষ সেই ঘাটে উঠেপাড়ায় ভেঙে পড়েছে।
এলজিইডির জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন,‘ হাওরে পানি আসায় ঘাটের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। নির্মাণধীন ঘাটে অতিরিক্ত মানুষজন উঠায় সেটি ভেঙে গিয়েছে। একই প্যাকেজে দুইটি ঘাট নির্মাণ হচ্ছে। ঠিকাদারকে এখনও বিল পরিশোধ করা হয়নি। কাজ শেষ হওয়ার পরই কেবল বিল পরিশোধ করা হবে।’