নিয়ম মানায় সচেষ্ট হোন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করুন

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সরকার একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রদান করেছে। এর অংশ হিসেবে আজ ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতা ব্যবস্থা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী নিযুক্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে নিম্ন আদালতের। আগামীকাল থেকে পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত দেশের সড়কে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্যবাহী যান বাদে সারা দেশে নৌপথে লঞ্চ, ছোট নৌকাসহ সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে স্থানীয় কমিউটার মেইল ট্রেন এবং আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরগুলো থেকে প্রায় সব আন্তর্জাতিক উড়ান এবং সব অভ্যন্তরীণ উড়ান বন্ধ করা হয়েছে। সন্দেহ নেই, এসব সিদ্ধান্ত সঠিক নির্দেশনার এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন-পরিপালন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধে অনেকাংশে সহায়ক হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই বিচ্ছিন্নতা অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশে আমরা এখনও যদি তা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে হয়তো অনেক প্রাণ বেঁচে যাবে। দুর্বিষহ জীবন থেকে রক্ষা পাবে অনেক নাগরিক। কাজেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিয়ম মানায় সবার সচেষ্টতা কাম্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও অধিক পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় হলো মানুষকে মানুষ থেকে দূরে রাখা। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টির কাজটি জরুরি। নানা কর্মকা-ে মনে হচ্ছে জনগণ এখনো এই বিপদ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয়। সচেতনতা জোরদারের পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে হবে।
পুরো বিশ্বের ঘটনা পরিক্রমায় আমরা এরই মধ্যে কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এটি আমাদের শক্তির দিক এবং এটিকে কাজে লাগাতে হবে। বলা হচ্ছে, ভাইরাসের পেছনে পেছনে ছুটলে হবে না, ছুটতে হবে আগে আগে। চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ যেসব দেশ এ ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে পেরেছে, তারা অনেকটাই সফল হয়েছে। কিন্তু ইতালিসহ যেসব দেশ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা চরম বিপাকে পড়েছে। তাই অন্যান্য দেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও জোরদার ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে হবে।
করোনাভাইরাস পরীক্ষার যথেষ্ট কিট, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার সরঞ্জাম এবং তাদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। বিপর্যয় মোকাবেলায় এ ঘাটতিগুলো দ্রুততম সময়ে দূর করা দরকার। সামষ্টিক স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যক্তি নাগরিকের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মহামারী মোকাবেলার সবচেয়ে সহজ ও সুলভ উপায় আপাতত সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা আর ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কিছু নিয়ম মেনে চলা। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত সরকারি নির্দেশ সুষ্ঠুভাবে পালন এবং মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সবার প্রতি আমাদের আহ্বান, সামষ্টিক স্বার্থেই সবাই সামান্য অসুবিধা মেনে নিন এবং সামাজিক দূরত্ব রক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাসকে মোকাবিলা করুন। সাময়িক এই সচেতনতা আমাদের দীর্ঘমেয়াদের লড়াইয়ে শক্তি জোগাবে।