নিয়োগের আগেই প্রভাষক তিনি

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
যখন ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় তখন নিয়োগপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষকের মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফলই প্রকাশিত হয়নি। অথচ এর কয়েক বছর আগে থেকে তাঁকে কলেজের প্রভাষক দেখিয়ে প্রতি মাসে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু করা হয়। পরবর্তীতে মাস্টার্স পরীক্ষায় ৩য় শ্রেণি পেয়ে উত্তীর্ণ মো. ফারুক হাসান একই কলেজে ইংরেজি বিষয়ে নিয়োগ লাভ করেন। আর বিষয়টি গোপন করে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে তিনি ধর্মপাশা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন। কিন্তু মো. ফারুক হাসানের এমন নিয়োগ বিধি বহির্ভূত ও অবৈধ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ।
মো. ফারুক হাসান ১৯৮৬ সালে এসএসসি, ১৯৯০ সালে এইচএসসি ও ১৯৯২ সালে বিএসহ প্রতিটি পরীক্ষায় ২য় শ্রেণি ও ১৯৯৮ সালের ২০ জুন ৩য় শ্রেণি পেয়ে ইংরেজি বিষয়ে মার্স্টাস পাস করেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালের ১২ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট কলেজের তৎকালীন গভর্নিংবর্ডির সভাপতির সভাপতিত্বে ৭ জন সদস্যের উপস্থিতিতে এক সভায় মো. ফারুক হাসানকে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক দেখিয়ে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩ মে এ কলেজে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষকসহ চারটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আর ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ লাভের জন্য মো. ফারুক হাসান তাঁর মাস্টার্স পাসের ফলাফল প্রকাশিত (২০ জুন ১৯৯৮) হওয়ার ১ মাস ৩ দিন আগে আবেদন করেন। পরে তাঁকে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০২ সালের ৩০ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কলেজ পরিদর্শন করেন। এ সময় মো. ফারুক হাসান তাঁর এমএ পাসের সনদপত্র দেখাতে পারেননি। এদিকে কলেজটি ২০১৬ সালে জাতীয়করণ ও ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট চূড়ান্ত গেজেট হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর কলেজের ৩০ জন শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ইংরেজি প্রভাষক (নন-ক্যাডার) হিসেবে মো. ফারুক হাসান অস্থায়ী নিয়োগ লাভ করেন।
ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মো. ফারুক হাসান বলেন, ‘এ সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। ২০০০ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩য় শ্রেণি শিথিলযোগ্য ছিল ও অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করা যেতো। আমার নিয়োগ যদি অবৈধ হতো তাহলে ২৪ বছর ধরে কীভাবে চাকরি করছি আর চাকরি সরকারিকরণইবা হয়েছে কীভাবে? অন্যান্য কলেজেও ৩য় শ্রেণিপ্রাপ্ত ইংরেজি প্রভাষক রয়েছেন। ২০০২ সালে সার্টিফিকেট আমার কাছে না থাকায় দেখাতে পারিনি। কিন্তু পরে অন্তত ২০ বার দেখিয়েছি। নিয়োগের আগে কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঠদান চালানোর জন্য আমাকে নিয়েছিলেন।’
ধর্মপাশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন, ‘আবেদন করার সময় উনার (ফারুক) যোগ্যতাই ছিল না। অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে প্রভাষকের জন্য আবেদন করা যায় না। বিধি মোতাবেক প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই মাস্টার্স ২য় শ্রেণি হতে হবে। ৩য় শ্রেণি কোনোভাবেই কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাঁর নিয়োগ অবৈধ। এ সংক্রান্ত প্রমাণ কলেজে রয়েছে। তাঁর ইনডেক্স নম্বর হাইস্কুলের ছিল যা কিছুদিন আগে ঠিক করা হয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলিদুজ্জামান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারি কলেজ শাখার উপ-পরিচালক মো ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে বিধি মোতাবেক যদি ওই প্রভাষকের নিয়োগ না হয়ে থাকে তাহলে অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’