নীরব বিএনপি ও শরিকদল

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
আগামী ডিসেম্বর মাসেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে অনুযায়ী নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ- ৩ আসনে মাঠে নেই বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট। নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠ পর্যায়ে তেমন বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে না মনোনয়ন প্রত্যাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সভাপতি মাও. শাহিনূর পাশা চৌধুরীসহ বিএনপি জোটের কোনো নেতাদেরই। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ব্যানার ও ফেস্টুনে অর্ধ ডজন নেতার প্রচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের অধিকাংশকেই আবার সাধারণ ভোটাররা চিনেন না। দেখেনওনি কোনোদিন। এর মধ্যে প্রবাসী নেতাও আছেন একজন। তাদের প্রচারণা ফেসবুক, ব্যানার ও ফেস্টুনে সীমাবদ্ধ। মাঠ পর্যায়ে তাদেরকে দেখা না যাওয়ায় অনেকে এই প্রচারণাকে পরিচিতি বাড়ানোর একটি মাধ্যম ছাড়া আর কিছুই বলছেন না। নেতারা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন না। করছেন না উঠান বৈঠক বা সভা সমাবেশ। এতে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি জোটের কোন্ প্রার্থী আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নিয়ে স্থানীয় কর্মী সমর্থকদের মাঝে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা এ আসনকে আগামী নির্বাচনে বিএনপির একটি ‘অরক্ষিত’ আসন বলেও আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন- এখানকার ২০ দলীয় জোট নির্বাচনমুখী নয়। মুখে প্রার্থী হওয়ার কথা বলে গেলেও প্রচারণায় নেই তাদের কেউই। যদিও নির্বাচনের আর মাত্র ৫ মাস সময় বাকী, কাকে দেওয়া হবে বিশ দলীয় জোটের মনোনয়ন তার কোনো শোরগোল এখনো শোনা যায়নি কেন্দ্র থেকে। কেন্দ্রের কালক্ষেপণ আর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হাবভাবে ভালো ভাবে বুঝা যায় আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির এ আসনটি ‘অরক্ষিত’। দায়সাড়া প্রার্থী দিয়ে এ আসনে নির্বাচন করবে বিএনপি।
দুই উপজেলার স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, এখনো পর্যন্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর উপজেলায় আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে কোনো নেতাই কাজ করছেন না। নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। তারা বলছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো নির্দেশ দেওয়া হয় নি তাদের। শরিক দলের সাবেক এমপি মাও. শাহিনুর পাশা চৌধুরীর তৃণমূল নেতা কর্মীদের সাথে কোনো যোগাযোগ না থাকায় কর্মীরা তাকে নিয়েও তেমন আশা করছেন না। আন্দোলন সংগ্রামে জমিয়তের অনুপস্থিতি, গতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদের সাথে বিরুদ্ধাচরণ, জমিয়তের বিভক্তিসহ নানান কারণে এ নির্বাচনে শাহিনুর পাশা চৌধুরীর প্রতি বিমুখ থাকবেন নেতাকর্মীরা। এছাড়াও তিনি কর্মীবান্ধব নেতা নয় বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। বলেছেন, লং মার্চ কেলেঙ্কারি, নিজের ব্যবসা ও মাদ্রাসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও মাঠে আসছেন না তিনি। তাই বিএনপি শরিকদলের বলার মতো প্রর্থী দেখছেন না জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভোটার ও নেতারা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনী কোনো চিন্তা আমাদের মাথায় নেই। আমরা নির্বাচন নিয়ে এখন ভাবছি না। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কিসের নির্বাচন? প্রহসনের নির্বাচনে আমরা প্রস্তুতই বা হবো কেনো? আগে আমাদের নেত্রীর মুক্তি, নিরপেক্ষ অবস্থার সৃষ্টি. তার পর নির্বাচন নিয়ে চিন্তা। আপাতত আমাদের সকল আন্দোলন কর্মসূচি আমাদের নেত্রীর মুক্তিকে ঘিরেই।’
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হুরায়রা সা’দ মাস্টার বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য এখনো এ আসনে কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়েনি। কেউই মাঠে যাচ্ছেন না। দলও নির্বাচনের জন্য আমাদের কোনো নির্দেশনা দেয়নি। মূলত দলীয় সিদ্ধান্তের জন্যই অনেকে আবার কাজ করছেন না। নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোনো তৎপরতা নেই।’
কেন্দ্রিয় জমিয়তের যুগ্ম-মহাসচিব ও জেলা জমিয়তের সভাপতি মাও. শাহিনূর পাশা চৌধুরী বলেন,‘আমি রাজনীতিতে সব সময়ই এ্যাক্টিভ। আমার আর কোনো পেশা নাই, রাজনীতিই আমার পেশা। আমি মানুষের কাছে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ঘোড়াডুম্বুর এলাকায় গিয়েছি। আমি প্রচারণার কাজে মাঠে নেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।’