নৈতিকতার কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা?

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলার মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নির্মিত দ্বিতল ভবনটির ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া শুরু হয়েছে, ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। বুধবারের পত্রিকা থেকে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রঙ্গারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবনের নির্মাণ কাজ ২০১৫ সনের ২৩ নভেম্বর শেষ করার কথা থাকলেও অদ্যবধি শেষ হয়নি। ওই ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের নানা ধরনের অনিয়ম-অবহেলার অভিযোগ করেছেন এলাকার লোকজন। সংবাদপত্রসূত্রের তথ্য অনুযায়ী উভয় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের সাথেই এলজিইডি জড়িত। এই দুইটি বিদ্যালয় ভবনের খবর সংবাদপত্রে এসেছে বলে অনিয়মগুলো জানা যায়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখুন, যেখানে যত এ ধরনের কাজ হচ্ছে সর্বত্রই অনিয়ম-দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে। এক প্রতিকারহীন অন্ধকার যাত্রার মত সীমাহীন আঁধার যেন গ্রাস করে বসে আছে সমস্ত নীতি-নৈতিকতা, নিয়ম-কানুন, আইন-বিধি-বিধান; সবকিছুকে। তাহিরপুরের বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণের মাত্র ৬ বা ৭ বছর পরই ব্যবহার অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এরকম সময়কে আয়ুস্কাল নির্ধারণ করে একটি ভবন নির্মাণ করা হয় আমাদের দেশে? অবশ্য যে দেশে উদ্বোধনের পরই সেতু ভেঙ্গে পড়ে সেখানে ঠিকাদার যদি বলেই বসেন, আমাদের ভবন তো অন্তত ৭ বছর টিকে গেছে, তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু যদি আপনি ভবনের ডিজাইন, নকশা, প্রাক্কলন ইত্যাদি মিলিয়ে কথা বলেন, তাহলে অবশ্যই ঠিকাদার ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীগণকে দায়ী করবেন। এখন এই ভবনের ছাদ খসে পড়ে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে আর সে দুর্ঘটনায় যদি কোন শিশু শিক্ষার্থীর জীবন বা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সেই দায় কে নিবে? সম্প্রতি সড়ক পরিবহন আইন পাসের বেলায় একটি চমৎকার কথা সামনে এসেছে। বলা হয়েছে, কোন সেতু ধসে যদি যানবাহন দুর্ঘটনা ঘটায়, তাহলে সেতু নির্মাণে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর শাস্তির বিধান করা হবে। আমাদের দেমে মূলত অন্যায় করে শাস্তি না পাওয়ার কারণে অন্যায়ের পাহাড় তৈরি হচ্ছে কেবল। সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে শিশু শিক্ষার্থীরা এই জাতিকে একটি প্রচ- ঝাঁকুনি দিয়েছে। আমরা নৈতিকতার কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি তারা সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই আমরা কি কোন ধরনের বিবেক দংশনে বিদ্ধ হচ্ছি?
ঠিকাদার ও তদারককারী প্রকৌশলীগণকে অবশ্যই সাজার আওতায় আনা উচিৎ। বিদ্যমান আইনে হয়ত সেটি রয়েছে, প্রয়োগের অভাবে সেটি হয়ত দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না কারও। কিন্তু এখন সময় এসেছে দৃশ্যমানভাবে কিছু করে দেখানোর। কারও ব্যক্তিগতভাবে তৈরি ভবন যদি ৫০ বছরেও বিনষ্ট না হয় তাহলে এর চাইতেও অনেক বেশি টাকা খরচ করে (সরকারি নির্মাণ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় সাধারণত বাস্তবতার চাইতে অনেক বেশি নির্ধারিত থাকে) নির্মিত একটি ভবন ৭ বছর পর কেন নষ্ট হবে অথবা নির্ধারিত মেয়াদ পার হওয়ার পরও কেন ঠিকাদার ভবন নির্মাণ না করার মত কোচ পরোয়া নেই অবস্থানে থাকবেন, এরকম স্পষ্ট দুর্নীতির স্পষ্ট বিচার বাঞ্ছনীয়। নতুবা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার কোন পথ নেই।
ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই বিদ্যালয় ভবন নিয়ে যে অনিয়ম-দুর্নীতির খবর সামনে এসেছে দ্রুত এর প্রতিবিধান কামনা করি আমরা।