নৌকা পেতে মরিয়া ৬ প্রবাসীসহ ৭ প্রার্থী

বিশেষ প্রতিনিধি ও জগন্নাথপুর অফিস
প্রবাসী অধ্যুষিত পৌরসভা জগন্নাথপুরে ২৯ মার্চ ভোট। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসাবে পরিচিত এই পৌরসভায় দলীয় মনোনয়ন পাবার জন্য ৭ জন আগ্রহী নেতা সোমবার সংগঠনের ধানমন্ডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রার্থী হতে আগ্রহী ৭ জনের ৬ জনই প্রবাসী। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন জানিয়েছেন, উপজেলা কমিটি থেকে সুপারিশ করা ৭ আগ্রহী প্রার্থীর ৭ জনকেই জেলা কমিটি সুপারিশ করেছে, এঁদের একজন দলীয় প্রার্থী হবার মনোনয়ন ফরম নেন নি, জমাও দেননি। প্রয়াত পৌর মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে দলীয় নেতাদের সুপারিশ ছাড়াই মনোনয়ন ফরম কিনে সোমবার ধানমন্ডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন যিনি পাবেন, জয়ের দৌঁড়ে তিনিই এগিয়ে থাকবেন। এজন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কর্মীসমর্থকদের নিয়ে রাজধানীতে অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম হারুনুর রশিদ হিরণ মিয়ার ছেলে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মিজানুর রশিদ চৌধুরী (লন্ডন প্রবাসী), জেলা পরিষদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মাহতাবুল ইসলাম সবুজ, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক লুৎফুর রহমান (লন্ডন প্রবাসী), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আকমল খাঁন (লন্ডন প্রবাসী), উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি শামছুল ইসলাম রাজন (লন্ডন প্রবাসী) ও আব্দুশ শহীদ (যুক্তরাস্ট্র প্রবাসী)।
উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশ না থাকলেও প্রয়াত পৌর মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে আবুল হোসাইন সেলিম (লন্ডন প্রবাসী) দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে প্রার্থী হবার জন্য আবেদন করেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে আগ্রহীরা উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে তাঁদের নাম পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। মনোনয়ন তদবির করছেন।
দলের স্থানীয় নেতারা প্রার্থী মনোনয়নে ব্যক্তি ইমেজ, পারিবারিক ইমেজ এবং দলে নিবেদিত সংগঠককে গুরুত্ব দেবার দাবি তুলেছেন।
পৌরসভার বাসিন্দা জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দে বলেন, ব্যক্তি ইমেজ, পারিবারিক ইমেজ, সর্বোপরি দলের প্রতি নিবেদিত কাউকে দলীয় প্রতীক নৌকা তুলে দিলে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ভোটাররা খুশি থাকবেন।
আওয়ামী লীগের সমর্থক একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভার কোন এলাকা থেকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে, জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে এটিও বিবেচ্য বিষয়। পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট বেশি। এই ওয়ার্ডগুলো থেকে আওয়ামী লীগের মনোয়ন চাইছেন মিজানুর রহমান চৌধুরী ও লুৎফুর রহমান। ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের সাথে ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যোগাযোগ ভালো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী জয়ী করেন। কিন্তু ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় নেতা মাহতাবুল ইসলাম সবুজও এবার দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। তিন নম্বর ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার থাকলেও ওই এলাকার দলীয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুশ শহীদ ইব্রাহিম, শামছুল ইসলাম রাজন এবং সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে আবুল হোসাইন সেলিম দলীয় মনোনয়নের চেষ্টা করছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ৭ জনের আবেদন পাঠানো হয়েছে। সকলের আবেদনেই আমি সুপারিশ করেছি। এরমধ্যে একজন মনোনয়ন জমা দেন নি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রয়াত পৌর মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে আবুল হোসাইন সেলিমের নাম সুপারিশ করেন নি। কিন্তু সে সোমবার দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপিও এই পৌরসভায় অংশ নেবে বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। দলের যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা কয়ছর এম আহমদের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতা রাজু আহমদ প্রার্থী হবার লক্ষে আজ মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে। এই দলের আরেক নেতা আবিবুল বারী আয়হানও প্রার্থী হবার জন্য গণসংযোগ করছেন বলে জানা গেছে।
জগন্নাথপুর পৌরসভায় মেয়র আব্দুল মনাফের মৃত্যুতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন, পহেলা মার্চ বাছাই, ৮ মার্চ প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ওইদিনই প্রতীক বরাদ্দ। ২৯ মার্চ ২৭ হাজার ১৪২ জন ভোটার ভোট দেবেন।