নৌ-চলাচলের পথ বন্ধ করে মাছ শিকার

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুর-মধ্যনগর উপজেলার যাত্রীবাহী নৌযান ও স্পিডবোট ছাড়াও বড়ছড়া-চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন থেকে কয়লা ও চুনাপাথর মালবাহী নৌকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহন করে থাকে। চলতি মৌসুমে দ্রুত হাওরের পানি কমে যাওয়ায় তাহিরপুরের পাইকরতলা নদীর দু’পাড়ে রশি টানিয়ে মাছ শিকার করছেন জেলেরা। এতে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সঙ্গে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলেরা এক ধরনের বৃহৎ আকারের বেড়জাল নদীর মধ্যে ফেলে জালের চার কোনায় রশি টেনে নদীর দু’পাড়ে বসে থাকে। জালের মধ্যে মাছ পড়েছে— জেলেদের এমন ধারণা হলেই হঠাৎ করে তাঁরা জালের চার কোনার রশি টেনে ওপরে তুলতে থাকে। এ অবস্থায় এই পথে চলাচলকারী নৌকা ও স্পিডবোট আকস্মিক দিক বা বাঁক পরিবর্তনে বাধ্য হয় বা হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতে হয়। দুর্ঘটনায় জালের ক্ষতি হলে জেলেদের জরিমানা দিতে হয় নৌযান ও স্পিডবোট চালকদের। কোনো কোনো সময় জেলেরা নৌযান চালকদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নৌযান চালক কলিন মিয়া বলেন, পাইকরতলা নদীর সুলেমানপুর থেকে কানামুইয়্যা বিল পর্যন্ত দুই স্থানে নদীর মাঝখানে জাল ফেলে দু’পাড়ে রশি টানিয়ে বসে থাকেন জেলেরা। একটু বেখেয়াল হলেই জালের ওপর নৌকা উঠে যায়। এতে জেলেদের গালাগাল শুনতে হয় এবং তাঁদের কাছে অনেক সময় মাফ চাইতে হয় অথবা জরিমানা গুনতে হয়।
স্পিডবোট চালক হাসান মিয়া বলেন, বর্তমান সময়ে তাহিরপুর—মধ্যনগরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা পাইকরতলা নদী। এ নদীতে জাল ফেলে
ব্যারিকেড দিয়ে স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার কারণে স্পিডবোট চালাতে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়।
তাহিরপুর ইউএনও ও ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইকরতলা নদীটি ৬নং রেজিস্ট্রার—বহির্ভূত। অর্থাৎ পাইকরতলা নদীটি বর্তমান কিংবা অতীতে কোনো সময়েই ইজারা দেওয়া হয়নি। এরপরও সেখানে মাছ ধরা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইউএনও রায়হান কবির বলেন, পাইকরতলা নদী থেকে ১০—১৫ দিন আগে তিনি নিজে গিয়ে জেলেদের জাল তুলে দিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা আবারও নদীতে জাল ফেলেছেন। তাঁদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।