পঞ্চকবির গানে মুখর বৈশাখী হিমেল সন্ধ্যা

স্টাফ রিপোর্টার
সুরের সাগরে ভেসে ছিলেন বিদ্বগ্ধ শ্রোতারা। দেড় ঘন্টার বিশুদ্ধ পরিবেশনা পিনপতন নিরবতায় শুনছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা সাহিত্যের পঞ্চকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, অতুল প্রসাদ সেন ও কাজী নজরুল ইসলাম, এই পাঁচ কবির গানের অনুষ্ঠান ‘গানে গানে পঞ্চকবি’ আয়োজন করেছিল জেলা উদীচী।
শুরুতেই একটি প্রার্থনা সংগীত তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে। এরপর ‘আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’, ‘বঙ্গ আমার জননী আমার ধাত্রী আমার দেশ’, ‘মোদের গর্ব মোদের আশা আ’মরি বাংলা ভাষা’, ‘লাবণ্যপূর্ণ প্রাণ প্রাণেশ হে’, ‘শ্যামা নামের লাগলো আগুন আমার দেহ ধুপকাটিতে’, ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’, ‘পদ্মার ঢেউ রে মোর শূন্য হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা’, ‘মলয় বাতাসে ভেসে যাব কুসুমের মধু করিব পান’, ‘আজ জ্যোৎ¯œা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম ঝরণার মতো চঞ্চল’, ‘মেঘের কোলে রোদে হেসেছে বাদল গেছে টুটি’, ‘মায়ের দেয়া মোটা কাপড়’। অনুষ্ঠানের শেষ ঘণ্টা বাজল কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ দিয়ে।
ডা. সালেহ আহমদ আলমগীরের প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। শেষঅব্দি প্রত্যেকটি গানেই সুর মেলানোর চেষ্টা করেছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকরা। শেষ করার আগে মঞ্চে এসে পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, রাজনীতিক রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, অ্যাড. সত্যব্রত দাস বুলু আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এমন অনুষ্ঠানে আমরা বারবারই দর্শক হিসাবে বসতে চাই।’
জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম শুধীজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা আপনাদের উপস্থিততে অনুপ্রাণিত’।
ডা. সালেহ আহমদ নির্দেশনা ও গ্রন্থনায় অনুষ্ঠানে শিল্পী হিসাবে ছিলেন চন্দনা পাল, পারমিতা রায়, সংযুক্ত তালুকদার, বন্দনা পাল, শিল্পী সরকার, পুষ্পিতা সরকার, লিমা বনিক, অপর্ণা তরফদার, অন্তরা খাসনবিশ, প্রসেনজিৎ দে, অপূর্ব বৈষ্ণব, জহির আহমেদ, দ্বীপায়ন চৌধুরী, অয়ন চৌধুরী, অঞ্জন চৌধুরী ও অমিত বর্মন।