পণতীর্থে গঙ্গা স্নান ও শাহ্ আরেফিনের (র.) ওরস, সড়ক সংস্কার কাজের জন্য চরম দুর্ভোগের আশংকা

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পলতীর্থ ও শাহ আরেফিনের (র.) ওরস আগামী ২ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এসময় তাহিরপুরের সীমান্ত নদী যাদুকাটায় (পনতীর্থে) পূন্য স্নানে মিলিত হবেন এবং একই সময়ে সীমান্তের লাউড়েরগড়ে শাহ্ আরেফিন (র.) মাজারে ওরস উৎসবে যাবেন আরেফিন ভক্তরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,‘উৎসবের আগেই ওই সড়কে শুরু হওয়া উন্নয়ন কাজ শেষ করতে হবে। না হয় যাতায়াত ভোগান্তিতে পড়বেন পূন্যার্থীরা।’
প্রতি বছরের মতো এবারও চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা নদীতে গঙ্গা স্নান হয়। এবার ২ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৯ টা ২০ মিনিট থেকে রাত ১ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত গঙ্গা স্নান হবে। স্নান উপলক্ষে আগের দিন থেকেই যাদুকাটার দুই পাড়ের অদ্বৈত মন্দির ও ইসকন মন্দিরকে ঘিরে অবস্থান নেবেন লাখো পূন্যার্থী। আবার ৩ এপ্রিল থেকে শাহ্ আরেফিন (র.) ওরস উপলক্ষে লাখো ভক্তের যাতায়াত শুরু হবে এই সড়ক দিয়েই। এবছর জেলা শহর সুনামগঞ্জ থেকে এই দুই উৎসবের যাতায়াত সড়কের প্রশস্ততার কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও মেরামত হচ্ছে, আবার কোন কোন স্থান ভাঙাচোড়াও রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই সড়কের পলাশ-ধনপুর-স্বরূপগঞ্জ অংশে কাজ করছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ চালবন্দ-বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর পর্যন্ত কাজ করছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সড়কের শেষাংশে প্রশস্তকরণের জন্য বক্স কেটে রাখা হয়েছে, এগুলো ভরাট না করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন থাকবে, যানজটেরও আশঙ্কা থাকবে। একইভাবে সড়ক ও জনপথের কাজ করা অংশে (চালবন্ধ থেকে কারেন্টের বাজার পর্যন্ত) ভোগান্তি পোহাতে হবে পথচারীদের।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে শনিবার এই বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাহিরপুরের নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পনতীর্থ গঙ্গা স্নান পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, শাহ্ আরেফিন (র)’এর ওরস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জীবন কৃষ্ণ দাস ও বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সড়কের এমন অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা দাবি করেন উৎসবের আগেই সড়কের প্রশস্তকরণের জন্য কাটা সকল বক্স ভরাট করার কাজ শেষ করতে হবে। দুই উৎসব চলাকালীন সময়ে কাজ বন্ধ রাখতে হবে এবং ভাঙাচোড়া সড়ক সংস্কার করে দিতে হবে।
প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে চালবন্দ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের প্রশস্তকরণের কাজ করছেন সিলেটের জামিল-ইকবাল কন্সট্রাকসন। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেখভালকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন,‘বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নির্দেশ দিয়েছেন সড়কের কাজ এমন ভাবেই করে রাখতে হবে যাতে বারুণি ও ওরস উৎসবে যাতায়াতকারীদের কোন ভোগান্তি না হয়। ২ দিন কাজ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।’
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অমিয় চক্রবর্তী বলেন,‘বারুণি এবং ওরস উৎসবে যাত্রীদের চলাচলের যাতে কোন সমস্যা না হয়, সেভাবেই কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্বম্ভরপুর এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মানিক লাল দাস জানান, পলাশ-ধনপুর-স্বরূপগঞ্জ সড়কে কাজ করছেন শহরের ঠিকাদার রেণু মিয়া, তাঁকে বারুণি স্নানের আগেই সড়ক প্রশস্তকরণের বক্স ভরাট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই এই নির্দেশ পালন করতে হবে।’
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,‘পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে শনিবার দাবি জানানো হয়েছে বারুণি স্নান ও ওরস উৎসবের আগেই সড়কের কাটা ও ভাঙাচোড়া অংশ ভরাট করার। এছাড়া গত বছরের মতো ওয়ানওয়ে অর্থাৎ এক সড়কে যাওয়া এবং আরেক সড়ক দিয়ে আসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।’
পুুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ্ খান বলেন,‘সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়গণকে আজ সোমবারই চিঠি দেওয়া হবে। চিঠিতে বারুণি স্নান ও ওরসের যাত্রীদের যাতে কোন ধরনের যাতায়াত ভোগান্তি না হয় সেই বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হবে ।’