পণতীর্থ ও ওরস স্থলের যোগাযোগ উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত

তাহিরপুর উপজেলার পণতীর্থ ও শাহ আরেফিন (রহ.) এর ওরস উপলক্ষে ওই দুই পবিত্র স্থানে প্রতি বছর ব্যাপক লোক সমাগম হয়। বেসরকারি হিসাব মতে প্রতি বছর ওই দুই উৎসবে প্রায় দশ লাখ মানুষ সমবেত হন জাদুকাটা নদী তীরবর্তী পণতীর্থ বারুণি ¯œান ও মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শাহ আরেফিন (রহ.) এর ওরসে। একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, প্রতি বছরই ওই উৎসবগুলোতে লোক সমাগম বাড়ছে। বিশেষ করে পণতীর্থ বারুণি ¯œান উপলক্ষে এখন সারা বাংলাদেশ এবং ভারতের বহু জায়গা থেকে পুণ্যার্থীরা আগমন করে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বা তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে উৎসব স্থানগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা এখনও অনুন্নত। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হয়ে সড়ক পথে পণতীর্থ পর্যন্ত যাওয়া যায় বটে তবে এই রাস্তা এতোটাই সংকীর্ণ ও জরাজীর্ণ যে, যাতায়াত দুর্ভোগের শিকার হয়ে পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জামে আটকে রাস্তায় বসে থাকতে হয়। এক ঘণ্টার পথ পেরোতে দশ/বারো ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়। লোক সমাগম বাড়ার প্রেক্ষিতে সংগত কারণেই সকলেই চান দুই ধর্মীয় উৎসব স্থানে পৌঁছার যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও অধিকতর উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ। এখন জনেে¯্রাতের মূল চাপ অর্থাৎ প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ যাত্রী সুনামগঞ্জ-চালবন্দ হয়ে উৎসবস্থলে পৌঁছেন এবং উৎসব শেষে পলাশ বাজার হয়ে ফিরেন। এদিকে চালবন্দ থেকে এবং ওদিকে পলাশ বাজার থেকে উৎসব স্থলের ভিতরের যে রাস্তা সেইটুকু অতিশয় সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা। উৎসব কমিটির সাথে জড়িত লোকজনসহ পুণ্যার্থীদের দাবি হলো, ওই রাস্তাগুলো আরও প্রশস্ত করা হোক। সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর রাস্তার প্রশস্তকরণ কাজ চলমান আছে। এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। ভিতরের রাস্তাগুলো এলজিইডির। এলজিইডিকে এখন ওই ভিতরের রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণের প্রস্তাব করতে হবে। এছাড়া সুরমা, রক্তি ও জাদুকাটা নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে নৌপথে বহু যাত্রী আয়েশে উৎসবস্থলে যেতে পারেন। তাই বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে নৌপথ সংস্কারের দাবি সকলের।
দুই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে যে জন¯্রােত তাহিরপুরে প্রবেশ করে তাকে উপজীব্য করে এলাকায় একটি অর্থনৈতিক কর্মকাÐ সংঘটিত হয়। স্থানীয় বহু লোক কয়েক দিন বাড়তি কিছু উপার্জনের সুযোগ পান। তাহিরপুর উপজেলাটি টাঙুয়ার হাওর ও ট্যাকেরঘাটকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পর্যটনস্পট হিসাবে সারা দেশে বিশেষভাবে পরিচিত হয়েছে। বর্ণিত রাস্তাগুলো সংস্কার ও নদীপথ চালু হলে ওই পর্যটন সম্ভাবনাও আরও বিকশিত হবে। সুতরাং দুই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের যে দাবি উঠেছে সেটি আখেরে সারা বছরের জন্য পর্যটনকেন্দ্রীক অর্থনৈতিক কর্মকাÐকে জোরদার করবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এলাকার উন্নয়নে প্রণীত সকল প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর নিকট উপস্থাপন করা হলে আমাদের বিশ্বাস, সড়ক ও নৌপথ সংস্কারের এই প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না। উপরন্তু আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রীও এলাকার উন্নয়নে নিবেদিত ও প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। দরকার হলো উপযুক্ত ও কার্যকর উদ্যোগের। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে এখন বিশেষ প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে উর্দ্ধমুখী করতে হবে। আমরা আশা করব, সুনামগঞ্জের উন্নয়নে এই বিষয়ে তারা অচিরেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।