পণতীর্থ ও শাহ আরেফিন (রহ.) মুখী জনস্রোত আজ থেকে

স্টাফ রিপোর্টার
‘অদ্বৈত প্রকাশ’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, একদিন রাত্রিতে অদ্বৈত প্রভুর জননী নাভাদেবী স্বপ্নে দর্শন করেন যে, তিনি সমস্ত তীর্থ জলে স্নান করছেন। প্রভাতে ধর্মশীলা নাভাদেবী স্বপ্নের কথা স্মরণ করে ও তীর্থ গমনের বিবিধ অসুবিধার বিষয় চিন্তা করে বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন, এমন সময়ে পুত্র অদ্বৈতাচার্য সেখানে উপস্থিত হয়ে মাতার বিমর্ষতার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁর মাতা তাঁকে স্বপ্ন দর্শনের কথা অবহিত করেন এবং তীর্থযাত্রায় অপারগতার কথা প্রকাশ করেন। অদ্বৈতাচার্য মাকে বিষন্ন দেখে পণ (প্রতিজ্ঞা) করলেন যে, এই স্থানেই সকল তীর্থের আবির্ভাব করাবেন। অদ্বৈতাচার্য অপ্রাকৃত শক্তির বলে তীর্থসমূহকে আকর্ষণ করলে সেখানে সকল তীর্থের জলের ধারায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল। অদ্বৈত জননী তাতে স্নান করে পরিতৃপ্ত হলেন।
মাতার বিস্ময় দৃষ্টে অদ্বৈত আরও বলেছিলেন-
“প্রভু কহে- দেখ মাতা সদা জল ঝরে,
শঙ্গ আদি ধ্বনি কৈলে বহুজল পড়ে।”“আশ্চর্য দেখিয়া মাতা নমস্কার কৈলা;
ভক্তি করি স্নান করি দানাদিক সমাপিলা।
তদবধি পণাতীর্থ হইল বিখ্যাত
বারণী যোগেতে স্নান বহু ফলপ্রদ।”
(অদ্বৈত্য প্রকাশ-২য় অধ্যায়)
প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে এইরূপে লাউড়ে এই তীর্থের উৎপত্তি হয়। অদ্বৈতের ন্যায় তীর্থসমূহও পণ করেছিলেন যে, প্রতি বারুণীতেই এস্থলে তাঁদের আবির্ভাব হবে। এই পণ শব্দ হতেই পণতীর্থ নাম হয়েছে। প্রতি বছরের মত এবারও ১৪ মার্চ বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত লাখো পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে যাদুকাটা নদীর গঙ্গা ¯œানে।
এদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদদেশে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফরসঙ্গী হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) এর আস্তানায় একই সময়ে ৩দিন ব্যাপী ওরস মোবারক, তবারক বিতরণ ও ভক্ত আশেকানদের জিকির আসগারে সরব হয়ে উঠে যাদুকাটা নদীর পূর্বতীর।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্ণেন্দু দেব বলেন, অদ্বৈত আচার্যের আশ্রম ও শাহ আরেফিন (রহ.) এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহ¯্রাধিক পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।