পথের কাঁটা দুই সেতু

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
সর্বসাকুল্যে আধা কিলোমিটার রাস্তা। এ গ্রাম থেকে সে গ্রামে যেতে বোরো জাঙ্গালের মতো কেবল একটি সরুপথ আছে। যা বছরের ছয় মাসই পানিতে নিমজ্জিত থাকে। বলতে গেলে কয়েকটি গ্রামের কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয় এটি। রিক্সা কিংবা টমটম চলাচলের উপযুক্তও না রাস্তাটি। তারপরও জামালগঞ্জের সাচনা বাজার ইউনিয়নের আক্তাপাড়া হয়ে ভরতপুর-হরিহরপুরের মাঝখানের আধা কিলোমিটার রাস্তায় পরপর দুইটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেতু দুটি নির্মাণ করলেও চলাচলে কোন কাজে আসছে না। বরং ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলছেন স্থানীয়রা। তবে আবুরা সড়ক হলে চলাচলে সেতুগুলো পুরোদস্তুর কাজে লাগবে। সে সড়কসহ ভরতপুর-চাঁনপুর সড়কে মাটি ফেলে আবুরা করতে কয়েক গ্রামের মানুষ স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবরে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় আট-দশ বছর আগে আক্তাপাড়া গ্রামের পেছন সড়কে সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়। ভরতপুর সম্মুখের পিয়াইন নদীর উপর সেতু না হওয়ায় সে সড়কটি এমনিতেই গুরুত্বহীন। পিয়াইন নদীতে সেতু হলে বেহেলী ইউনিয়নের রহিমাপুর, গোপালপুর, নিতাইপুর, আরশিনগর, রাজাপুর, বাগহাঁটি, গুচ্ছগ্রাম এবং সাচনা বাজার ইউনিয়নের হরিহরপুর, আক্তাপাড়া, কুকড়াপসি, ভরতপুর, চাঁনপুর, খলা চাঁনপুরসহ অন্তত ২৫-৩০টি গ্রামের মানুষের সুনামগঞ্জে আসা-যাওয়ার প্রধান সড়ক হবে এটি। কিন্তু এ সড়কে পরপর দুটি সেতু নির্মিত হলেও সেগুলো চলাচলে কোন কাজে আসছে না।
শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা সড়কটি কৃষিকাজে ব্যবহার করলেও সেতু দুটি উঁচু হওয়ায় সাধারণ মানুষকে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থেরই শুধু অপচয় হয়নি, চলাচলে সেতুগুলো পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে সেতুর বদলে কালভার্ট দিয়ে পানি চলাচলের ব্যবস্থা রেখে মাটি সমান পথ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো এমন মতামত অনেকের।
কয়েকদিন আগে হরিহরপুর সংলগ্ন সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি প্রায় ভগ্নদশায় পতিত। ভেঙ্গে পড়ছে র‌্যালিং। বনবাদাড়ে ছেয়ে গেছে সেতুর সম্মুখস্থল। একদিকে হাঁটুভাঙ্গা দিয়ে সেতুয় কোনরকম উঠতে পারলেও বিপরীত দিক পানিতে নিমজ্জিত। সেদিক থেকে পায়ে হেঁটে ভরতপুরমুখী যাওয়া যায় না। আরেক সেতু পানিবন্দী থাকায় তার দুইপাশ ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র হেমন্ত মৌসুমেও সেতুগুলো চলাচলের উপযোগী হয়। বর্তমানে হরিহরপুরের পার্শ্ববর্তী যে সেতু আছে সে সেতু থেকে মাটির উচ্চতা প্রায় দুই ফুট হবে। এ উচ্চতা ডিঙিয়ে কৃষক ধানের বস্তাভর্তি ঠেলা কিংবা খড়াদি নিয়ে সহজে চলাচল করতে পারবে না বলেই মনে হয়েছে। এ অবস্থায় ভরতপুর থেকে হরিহরপুর হয়ে চাঁনপুর পর্যন্ত আবুরা সড়ক নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
হরিহরপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, এইখানে সড়ক হইলে এইডা যেমন ব্রিজ দেওয়া সঠিক হইল। আর সড়ক না থাকলে এইখানে ব্রিজ দেওয়া তো কোন মানে হইল না। এইডা তো খালি পানি চলাচলের সুবিধা হইল। কিন্তু মানুষের চলাচল, যাতায়াত, ধানফান বা ফসিল তোলার কোন সুবিধা হইল না। এইখানে সড়ক হইলে সবদিক দিয়াই সুবিধা হইব। আমরার সড়ক দরকার।
ভরতপুর গ্রামের বিমল দাস জানিয়েছেন, শুকনার সময় জরুরী কাজ ছাড়া কেউ এ রাস্তায় তেমন চলাচল করে না। যেখানে ব্রিজ দেওয়া হয়েছে সে রাস্তা মূলত ধান-খড় উঠানোসহ গরুবাছুর আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। মেইন রাস্তা থেকে ব্রিজ উঁচু থাকায় কৃষি মৌসুমে কৃষি কাজ ব্যাহত হয়। ব্রিজ দুইটা কোন কাজেই আসছে না। তবে সেতুসমান আবুরা রাস্তা করলে মানুষ নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবে। এছাড়া ভরতপুরের ব্রিজ হইলেই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হবে এটি। আমরা চাই এখানে অচিরেই সড়ক নির্মাণ করা হোক।
এখানকার ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, এখানে আবুরা রাস্তা প্রয়োজন। ব্রিজ দুইটা আছে, কিন্তু সড়ক না থাকায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এই রাস্তা হলে কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হবে। ভরতপুরের ব্রিজ হবে। এই ব্রিজ হওয়ার আগে আক্তাপাড়া মসজিদ থেকে ভরতপুরের গোদারাঘাট এবং গোদারাঘাট থেকে চাঁনপুর পর্যন্ত রাস্তা হওয়াটা খুব প্রয়োজন।
সাচনা বাজার ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় ব্রিজ দুটি হয়েছে। তখনকার বাস্তবতায় ব্রিজের প্রয়োজন ছিল। চলাচলে অসুবিধা হলে রাস্তা করা হবে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, হ্যাঁ, এইবার রাস্তা এটা আমরা করব। রাস্তাটি ডিপিপিভুক্ত আছে। ডিপিপি পাস হলেই এখানে সাবমার্সিবল রাস্তা করা হবে।