- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

পথের কাব্য

সাদিয়া চৌধুরী পরাগ
জন্মের পর একটু বেড়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে নতুন মাটি ও মানুষ দেখা ও জানার কৌতুহল আমাকে সর্বক্ষণ তাড়া দেয়। এ যেন বিশেষ কিছুর হাতছানি। অজানাকে জানার এবং অদেখাকে দেখার ডাক। তখন ইচ্ছে হয়েছে ঘর থেকে বের হয়ে দুর্বার ছুটে যেতে, নীলাভ খাসীয়া পাহাড়ের ধারে। কখনো দূরে কোনও নির্জন নদীর তীরে। অথবা নৌকায় ভেসে বেড়াতে।
কিন্তু মনের এই উদ্যাম স্পৃহায় শেকল পড়িয়ে রাখা হয়, আভিজাত্য ও রক্ষণশীলতার শক্ত গিঁট দিয়ে। আরো একটু বড় হয়ে বোধ-বুদ্ধির আলোকে এই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে ভেবে যে সত্যটি স্পষ্ট হয়ে উঠে, তা হলো এই গেরো শুধু আমাকে বা আমাদের শত পরিবারের নারীদের বেঁধে রাখেনি। হাজার বছর পূর্ব থেকে ভারতবর্ষীয় রমণীদের রক্ষণশীলতার প্রবল শক্তি এক প্রকার অদৃশ্য কারাগারে বন্দি রাখে।
নতুন স্থান, মাটি ও মানুষ দেখার অবিরাম অভিলাষ নিয়েও ভেবেছি। তখন উপলব্ধি বোধে এসেছে, এ এক প্রকৃতি, মনের স্বভাব। পৃথিবীর অনেকাংশ মানুষের মাঝে এর নেশা রয়েছে। কালের ইতিহাসে মার্কোপলো, ইবনে বতুতা এবং শেখ সাদী বিশেষ উল্লেখযোগ্য নাম।
এরা নতুন মাটি ও মানুষ দেখে প্রকট সত্যটা অনুভব করেছেন, মানুষ এক এবং অভিন্ন জাতি। তবে এদের শারীরিক গঠন আকৃতি ও রূপ-রং একই প্রকার নয়। দেশে, দেশে ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের রকমফের রয়েছে। সামাজিক প্রথা প্রচলনের তারতম্য ভাষাগত পার্থক্য অবলোকন করে জ্ঞানের পরিসর ও অভিজাত্য লাভের সুযোগ ঘটিয়েছে নানা বৈচিত্রতার মাধ্যমে। এবং তাঁদের মতো আরো অনেক উল্লেখযোগ্য পর্যটক রয়েছেন, যাঁরা ভ্রমণের অবকাশে আপন দেশের সঙ্গে ভিনদেশের সম্পর্ক স্থাপন করে ব্যবসা বাণিজ্যের সুগম পথ করে দিয়ে ইতিহাসে ঋদ্ধ হয়েছেন।
নতুন মাটি ও মানুষ দেখার সুযোগ ঘটে যায়, আমার বয়স সিকি শতাব্দীতে পৌঁছার তিন/চার বৎসর পূর্বে। এটা আমার বিবাহোত্তর সময়ের সপ্তাহ দিনের ঘটনা। সে সময়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন আমার বর। হাতে ছুটি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। স্যুটকেইসে কটা কাপড় গুছিয়ে রাখো। চলো কাল-পরশুর মধ্যে সিলেটের বাইরে কোথাও ঘুরে আসি। আমি তো অবাক। কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এতটুকুন সময়ের মাঝে কথাটা চাউর হয়ে যায়। রুম থেকে রুমে। বলা যায়, পুরো বাড়িতে। বর্ষীয়ান রমনীরা ছুটে এসে নানা আপত্তি তুলে বলতে থাকেন, এসব কী কথা বলছো শুনি। বিয়ের বর-কনে। এখনো গায়ে কাঁচা হলুদের রং রয়ে গেছে। ও বলে উঠে, তাতে কী? এজন্য ঠায় ঘরে বসে থাকতে হবে না কী? বিয়ের রাতে ঢাকা থেকে সিলেটে বউ নিয়ে আসিনি? সেই থেকে যাত্রা শুরু।
প্রকৃতপক্ষে আমার হ্যাজবেন্ড ছিলেন খুব ভ্রমণ বিলাসী মানুষ। তাঁর অনেক শখের সঙ্গে আমার শখ হুবহু মিলেমিশে গেছে। যেমন, আউট বইপড়া, গল্প উপন্যাস পাঠের প্রবল নেশা, দেশ ভ্রমণ, দেশীয় সংস্কৃতি ও গান বাজনার প্রতি ঝোঁক, সিনেমা দেখা এবং সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করা ইত্যাদি। এছাড়াও তাঁর ছিলো বাগান করার অদ্ভূত নেশা। এক চিলতে মাটি পেলেই হয়। ফুলে ফলে বৃক্ষ শূন্য স্থান পূরণ হয়েছে সবুজের নান্দনিকতায়। এ জন্য অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।
বিয়ের সপ্তাহ দিনের মধ্যে বন্দর নগরী চট্টলা থেকে ভ্রমণ শুরু হয়ে কক্সবাজার এবং উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, রংপুর খুব বেশি ঘুরে বেড়িয়েছি। শহর বন্দর গ্রাম গঞ্জ আমাদের বাছ বিচার ছিল না। ছুটির দিনে কিংবা অফিসিয়েল ট্যুরে একটা পুরানো জীপ গাড়ি, মোটর সাইকেল নতুবা ঘোড়ার গাড়ি চড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে বেড়িয়েছি বিরামহীন যাত্রার উড়াল পাখির মত। আমাদের ডেরা কিংবা সরকারি আশ্রয়স্থল থেকে বেশ দূরে দশ বা বার/পনেরো মাইলের কোথাও গেলে ফিরতি পথে রাত হওয়ার কথা ভেবে, অনেক তম¯্রি রজনী ফুরিয়েছে কোন জরাজীর্ন ডাক-বাংলোয়। নতুবা এক কালের বিত্তশালী এবং জমিদারদের পরিত্যক্ত কুটিরে।
সে সময় গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বেশ কিছু ভাবনার খর¯্রােতে ভেসে মনে হয়েছে, হ্যাজবেন্ড না হয় সরকারি কর্মে ট্যুর করছেন। কিন্তু আমি? তখন মাস দিন অন্তে পাওয়া আমার বাবা দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের চিঠিগুলো খুব নাড়া দিতো। বাবা লিখতেন, তুমি যেখানে রয়েছো সেখানে সাঁওতালদের বসবাস। বাংলা সাহিত্যের অমর দিকপালদের একজন শৈলজানন্দ মুখপাধ্যায়। যাঁর বাবল্য উপন্যাস পড়ে একদিন তুমি কেঁদে আকুল হয়েছিলে…। তাঁর অন্যতম সৃষ্টি সাঁওতালদের নিয়ে লেখা আরো একটি উপন্যাস হৃদয়ের অতলে ঢেউ ওঠে, নানা প্রশ্নে। ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যয়ের লেখা হাঁসুলী বাঁকের উপকথা। যদি পড়ে না থাকো সংগ্রহ করে পড়ে নেবে। কাহার-বাগদীদের নিয়ে লেখা কী চমৎকার সৃষ্টি, অনবদ্য রচনা।
বাবা যেনো কিছুর নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো ঘুরে অভিজ্ঞতা অর্জন করে লিখতে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি লেখালেখি থেকে তখন আমি অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। সৃজনশীল জগতে সমপ্রাণের মানুষের অভাবে। লেখক বা সৃষ্টিধর্মীদের ঘুরে বেড়ানো এবং মেলা মেশা ও আড্ডার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সে সময় বিচিত্র বিষয় যা দেখেছি, ডায়েরির পাতায় এঁকে রেখেছি। ডায়েরির লেখাগুলো মুছে যায়নি এখনো। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার ‘কোরকেরিয়া’র প্রকৃত নামটি কেউ কোনদিন তাকে জিজ্ঞেস করেনি। সে এ নামেই সেখানে পরিচিত। তবে কে যেনো একদিন জানিয়ে দেয়, লোকটার প্রকৃত নাম তিনকড়ি। তিনকড়ি দাস। সে সিলেটের অধিবাসী। তার কন্ঠস্বর খুবই কর্কশ। সেজন্য নাম হয়েছে কোরকরিয়া।
সে আমাদের বাড়ি সিলেট জেলায় শুনতে পেয়ে খুব আগ্রহ প্রকাশ করে। একান্তে দেখা ও পরিচিত হওয়ার জন্য। মনে হলো, সাক্ষাৎ করার জন্য সে বেশ উতলা উঠে। সেজন্য ক’দিন যেতে না যেতেই এক বিকেলে সরকারি বাংলোয় ছুটে আসে।
প্রায় চল্লিশ কিংবা সামান্য উপরের বয়সী হ্যাংলা পাতলা মানুষটা রুমে ঢুকে নীচু হয়ে কপাল ঠেকিয়ে সম্মান জানাবে, দু’জনেই বুঝতে পারিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় আমার হ্যাজবেন্ড অপ্রস্তুত হয়ে বলে উঠেন, আরে.. আরে, বসো.. বসো। তুমি আমাদের বয়সে বড়..। মুরব্বী মানুষ। কোরকেরিয়া বেশ শান্ত কন্ঠে বলে, তা হোক। মানিজন সবার নমস্য।
এরপর থেকে তার যাতায়াত শুরু। সে প্রায় দিন এসে বাড়ির গাছে লাগানো ঢাঁশা পেয়ারা জাম্বুরা ডালিম এনে দিতো। আপত্তি করলে করুণ সুরে বলতো, আপনারা আমার দেশের স্বজন…। আপনাদের কিছু দিতে পারলে জনম মাটির কিছু ঋণ শোধ হয় গো দিদি। কোরকেরিয়া কেঁদে উঠতো। তখন অনুভূত হতো মানুষটার প্রাণের গহীনে কোনও কষ্টের কাব্য জাগ্রত।
বেশ কিছুদিন পরে, এর কিছুটা জানা হয়ে যায়। কোরকেরিয়াই বলে, তার নিজের কথা। দেশের বাড়ি হবিগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) যাত্রাপাশা। তার ঠাকুরদা প্রথমে কুলাউড়া রেলস্টেশনে মুটের কাজ করতো। পরে ফিরে আসে সিলেট রেল স্টেশনে। বলতে গেলে তাদের জানাশোনা স্টেশন মাস্টার তাকে নিয়ে আসে। কোরকেরিয়া ও তার বোন শেলবালা মাতৃহীন। তারা দু’ভাইবোন সৎ মায়ের সংসারে বেড়ে উঠে অসম্ভব অত্যাচারের ভেতরে। এসব দেখেশুনে ঠাকুরদার সহ্য হয়নি। এক সময় নাতি তিনকড়িকে বাড়ি থেকে এনে স্টেশন মাস্টারের বাসায় কাজে লাগিয়ে দেয়। মাসিক পাঁচ টাকার মতো মাইনে। বারো-তেরো বৎসর বয়সী ছেলে তিনকড়ি এতেই খুশী, একেবারে গদ-গদ।
কিন্তু তার চিন্তা হতো, বয়সে দু’বছরের বড় শৈলবালার জন্য। মায়ের পেটের একটি মাত্র বোন তার। এই দিদি তাকে প্রায় প্রতিদিন আগলে রেখেছে মমত্বের গভীরতায়। সৎ মায়ের পৈচাশিক নির্যাতন ও বাবার মারধর থেকে। সে সৎ মা ও বাবার কঠোরতা থেকে এক রকম নিষ্কৃতি পেয়ে গেলেও তার দিদি! নারকীয় আগুনে পুড়ে তিলে তিলে জ্বলছে। কিছুদিন পর, ঠাকুরদা এক রকম হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে তাকে বললো, শৈলদিদিকে বাড়ির বাইরে তেঁতুল গাছে বেঁধে মার-পিঠ করার কথা। পড়শীরা ছুটে এসেও থামাতে পারেনি…। ঠাকুরদা কেঁদে আকুল হয়ে বললে, তুই এখানে থাক। আমি বাড়ি যাই। দেখি অবলা দিদির জন্য কিছু করতে পারি কি-না।
তিনি দ্রæত যাত্রাপাশায় ফিরে গিয়ে মাসদিন কাটিয়ে আবার সিলেট স্টেশনে এসে মুটের কাজে যোগ দিয়ে মন লাগাতে পারেনি। কারণ পাশের গাঁয়ের জানাশুনা একটি পরিবারের পাত্রের সঙ্গে শৈল দিদির বিয়ের সম্বন্ধো পাকাপাকি করায় ঠাতুরদা ভীষণ চিন্তায় পড়ে যায়। বিয়ের খরচ পাতি, বরপক্ষের দাবি দাওয়া পণ ইত্যাদির জন্য। কিন্তু স্টেশন মাস্টার ব্রজনাথ বাবু এমন ব্রজশঙ্কা থেকে তাদের উদ্ধার করেন যেনো ভগবানের মতো। সব শোনে তিনি ঠাকুরদার হাতে নগদ সাতশত টাকা গুজে দিয়ে বললেন, এই নাও তোমার নাতির বেতনের আগাম মাইনে। এটা মাসে মাসে কর্তন যাবে…। কিন্তু তবুও রক্ষে। মুশকিল আহসান হলে….। ঠাকুরদা টাকাগুলো হাতে নেবার কালে কি জানি কেন, অসম্ভব কেঁপে ওঠেছিলো…। বাড়ি যাওয়ার কালে বিনয় কন্ঠে বলেছিলো, মাস্টারবাবু শৈলের বিয়েতে যোগ দিতে তিনকড়িয়া একটু যেতে দেবেন…।
কিন্তু তার ছুটি মেলেনি। দিদির বিয়ে উপলক্ষে কিংবা অন্য কোন কারণেও যাত্রাপাশা যাওয়া হয়নি আর। কারণ, স্টেশন মাস্টার বদলি হয়ে গিয়েছিলেন, বেশ আগে। কথাটি ঠাকুরদাকে গোপন করে।
সেই থেকে ঐ পরিবারের সঙ্গে ক’বছর পর পর ঘুরে ঘুরে সান্তাহারা, পার্বতীপুর এবং বৈদপুর পর্যন্ত পৌঁছে। এক সময় জানতে পারে দেশ ভাগাভাগি হয়ে গেছে। পাকিস্তান-হিন্দুস্থান নামে দুটি নতুন দেশ সৃষ্টি হয়েছে। সে সময় তার বয়স সতেরোতে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনকড়ি নিজের ভালোমন্ত সম্পর্কে বেশ বুঝে। সে কারণে ব্রজনাথ বাবু তাকে একদিন প্রায় ফিসফিস স্বরে বলে উঠেন, তিনকড়ি! ক’দিন পরে আমরা হিন্দুস্থানে ফিরে যাবো। তুমি আমাদের সাথে যাবে। তিনকড়ি রাজি হয়নি। কেন যাবি না? ব্রজনাথ বাবু ব্রজকন্ঠে গর্জে উঠেন, ও উপকারের কথা ভুলে গেছো? সে বলে উঠে না-না বাবু তা ভুলবো কেন। কিন্তু টানা লম্বা কয়েক বছরে আপনার দেনা শোধ হয়নি?
কোরকরিয়া আর যায়নি, তার ঠাকুরদার একটা মূল্যবান কথা স্মরণ করে। স্থান ছাড়লে মান যায়। তাছাড়া শৈল দিদির কথাটিও মনে হয়েছে। দিদি যদি দেশে তার শ্বশুর বাড়ি থাকে! তাহলে তাকে রেখে অন্যত্র যেতে পারবে না সে। এখানে থাকলে একদিন হয়তো বা তাদের দেখা হতে পারে…।
সে বেশ চেষ্টা করেছে ক’বছর। হবিগঞ্জের যাত্রাপাশা অঞ্চলের কারো সন্ধান পায় কি-না। তাদের কারো সঙ্গে গিয়ে জন্মভূমি দেখে আসতে..সর্বাগ্রে তার দিদি শৈলবালাকে। কিন্তু সে রকম কারো দেখা পায়নি সে। এরকম প্রতীক্ষার মাঝে দিন কাটিয়ে নবাবগঞ্জ থানার পাশে ডেরা পেতেছে। ঘর-বাড়ি বৌ সন্তান নিয়ে ভালো আছে সে।
কিন্তু এই ভালো থাকা এবং সুখ আনন্দকে সর্বক্ষণ কুরে কুরে খায়, শৈল দিদির বিচ্ছেদ, বেদনা। কোরকোরিয়া ঢুকরে কেঁদে উঠে। সেসময় দিনের সূর্য বিদায়ের আয়োজনে ব্যস্ত।
সরকারী বাংলা হতে সিকি মাইল দূরে সারি সারি শাল গজারি বনে নি:স্তব্ধ প্রায় হয়ে উঠেছে। বেলা শেষ হওয়ার আগেই এদিকে আঁধার ভৌতিক ছায়া ফেলে। আমার হ্যাজবেন্ড ও আমি কোরকোরিয়াকে এগিয়ে দেবার জন্য উঠে দাঁড়াতেই সে সজোরে কেঁদে বলে, আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, শৈলদিদির জন্য…তোমাদের জন্য…, প্রতিটি নারীর জন্য… ভগবান যেনো তোমাদের সকল রকম নির্যাতন থেকে বাঁচিয়ে রাখেন….।
নতুন মানুষ ও মাটি দেখার এ এক অধ্যায়। যা পথের কাব্য নামে পরিচিতি পেতে বসেছে। বলা বাহুল্য কোরকোরিয়ার সাথে যখন আমাদের দেখা হয় তখন সে হবিগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা ভুলে দিনাজপুর ও রংপুর জেলার কথ্য ভাষা রপ্ত করে নিয়েছে। এ জন্যও সে কুন্ঠা বোধ করেছে।
সে ও তো অর্ধ্ব শতাব্দী আগের কথা।
লেখক: দার্শনিক ও লেখক।