‘পরকালিন মুক্তিই’ রোজার বড় পুরস্কার

সু.খবর ডেস্ক
মহান আল্লাহর রহমতে জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিয়ে পরকালিন মুক্তি নিশ্চিত করা। নাজাত এর অর্থই হচ্ছে পরিত্রান কিংবা মুক্তি। যেহেতু সিয়াম সাধনা তথা এবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে বান্দা গুনাহ থেকে মুক্তি পান, পরকালে কঠিন শাস্তি তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে থাকেন, এজন্যই এই মাহে রমজানকে নাজাতের মাস বলা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে সে-ই সফলতা লাভ করেছে।’ (আলে ইমরান-১৮৫)।
এই আয়াতে করীমায় বান্দার প্রকৃত সফলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নাজাতকে। মাহে রমজানের যত ফজিলত রয়েছে তার শেষ কথাই হচ্ছে নাজাত। এই একমাসের ইফতার, সাহরি, সিয়াম সাধনা, এবাদত বন্দেগী, দান সদকা, ভাল কাজ তথা সিয়াম সাধনার সফলতাই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি তথা এই নাজাত। আর নাজাত অর্জন করা রমজানের অন্যতম একটি উপলক্ষ্য।
মাহে রমজানকে মহানবী (সা.) নিজেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘এটি এমন একটি মাস, যার প্রথম ভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্যভাগে গুনাহের মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে দোজখের আগুন থেকে মুক্তিলাভ রয়েছে।’ (মিশকাত)
রমজানে বান্দার মুক্তিলাভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এমন অনেক সহিহ হাদিস রয়েছে।
হযরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করীম (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য কালেমা পড়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে এবং তার শেষ নিঃশ্বাসও কালেমার উপর হবে। যে ব্যক্তি কোনো দিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখলো তার শেষ নিঃশ্বাসও সেটার উপর হবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সদকা করেছে তার শেষ নিঃশ্বাসও সেটার উপর হবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসনাদে ইমাম আহমদ ৯ম খন্ড, ৯০ পৃষ্ঠা)
বায়হাকি, সুনানে তিরমিজি ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, রমজান মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দেয়া হয়।
অন্য এক হাদিসে আছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে প্রতি ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিদান করেন। প্রতি রাতেই তা হয়ে থাকে (সুনানে ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমাদ)।
অন্য হাদিসে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে প্রত্যেক দিন ও রাতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। আর প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দোয়া কবুল করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)
বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, রমজানে প্রকৃত রোজাদারকে দিন রাত প্রতিটি মুহূর্তে ক্ষমা করা হয়।
আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে রমজানে ঈমান এবং ইহতিসাব (আল্লাহের কাছ থেকে পুরস্কারের আশা করা) এর সাথে সিয়াম পালন করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (আল বুখারি (৩৮), নাসাই, ইবন মাজাহ, আহমাদ, ইবন হাব্বান)।
মাহে রমজানের এই নাজাতের দিনগুলিতে এবাদত বন্দেগী করে আল্লাহ কাছে ফরিয়াদ করে নিজের মুক্তি অর্জন করতে না পারলে সেই প্রকৃত অর্থেই সবচেয়ে বড় দুর্ভাগা মুসলমান। কারণ সে জীবনে এই মাহে রমজান আর নাও পেতে পারেন, এটিই তার শেষ রমজান হতে পারে তাই প্রত্যেক বান্দার উচিত এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগানো।
এক হাদিসে রয়েছে, হযরত জিবরাইল (আ.) এসে নবীজী (সা.) কে বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যে রমজান মাস পাওয়ার পরও নিজের গুনাহ মাফ করতে পারলো না। তখন নবীজী (সা.) বললেন, আমীন। (মুসতাদরাকে হাকেম)।
তাই বান্দার উচিত রমজানের শেষ মুহূর্তে দেশ দশদিনে আগের যত গাফিলতি, ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে তা দূর করে একাগ্র চিত্তে সিয়াম সাধনা করে আল্লাহ পাকে সন্তুষ্টির্জন করার মধ্যদিয়ে নাজাত প্রাপ্ত হওয়া। কোনোভাবেই যেন আমরা মাহে রমজানের মতো আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামতকে হেলায় শেষ করে না দেই।
মাহে রমজানের শেষ দশদিন তথা নাজাতের এই দিনগুলিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সিয়াম সাধনা আমাদের জন্য জ্বলন্ত উদাহরণ। আল্লাহর রাসূল (সা.) কে অনুসরণ করার মধ্য দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাত থেকে মুক্তি পেতে হবে।