পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) বাস চলাচল বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সিলেট বিভাগের চার জেলায় আজ সোমবার থেকে বাস ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ’এর কার্যালয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। বৈঠকে সিলেটের ডিআইজি কামরুল আহসান বিপিএম উপস্থিত ছিলেন।
মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা ফলিক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সচিব আলী, সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসি’র ৪ টি গাড়ী চলবে। সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট তারা চারবার করে আসা-যাওয়া করবে।
বিআরটিসির সিলেটের ডিপো’র ম্যানেজারও একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসির বাস সাভিস চালু হয়েছে গত ৩ জুন। এর প্রতিবাদে ওই দিনই সুনামগঞ্জ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নামে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বাস ধর্মঘট হয়। পরে একই দাবিতে আবার ২৪ জুন থেকে ব্রহ্মণবাড়িয়া এবং সিলেটের চার জেলায় বাস ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর বাস ধর্মঘটের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে বিভিন্ন সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। ‘গণঅনাস্থা’ জানানো হয় এই অযৌক্তিক বাস ধর্মঘটের প্রতি। পরে ২২ জুন সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং সুনামগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজনের বৈঠক শেষে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। প্রথমে এই সড়কে আটটি বাস চালু হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে এই সড়কে বিআরটিসির বাস আরও বাড়ানোর দাবি থাকলেও পরে আরও দুটি বাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ছয়টি বাস চলছে।
গত রোববার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং পুলিশের সিলেট রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। স্মারকলিপিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসির বাস সার্ভিস বন্ধ, বিআরটিসির ইজারা প্রথা বাতিল, মৌলভিবাজার জেলায় শ্রমিকদের ওপর দায়েরকৃত একটি মামলায় ধারা পরিবর্তন, সড়ক পরিবহন আইনের ধারা সংশোধন এবং সড়কে চেকিংয়ের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি না মানা হলে পরদিন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সিলেটের চার জেলায় অনিদিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।