পরিবহন সেক্টরকে গণবিক্ষোভের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক থেকে বিআরটিসি’র বাস প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবিতে সিলেট বিভাগের পরিবহন-মালিক সংগঠনগুলো শক্ত কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে বুঝা যায়। বুধবার সিলেটে অনুষ্ঠিত বিভাগাধীন পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ২৩ জুন থেকে সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সিলেট বিভাগের একটি আঞ্চলিক সড়কে বিআরটিসি’র সামান্য কয়েকটি বাস চালুর জন্য কেন পুরো বিভাগ ও পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পরিবহন ধর্মঘট ডাক দেয়া হলো সেই কারণ কারও কাছেই বোধগম্য নয়। তবে তাঁরা সম্ভবত সরকারকে একটি শক্ত চাপ দিয়ে দাবি মানতে বাধ্য করার পথে অগ্রসর হচ্ছে। বিনা কারণে, তুচ্ছ কারণে, নিজেদের অনৈতিক দাবি আদায়ে এই সেক্টরে ধর্মঘট ডেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার প্রয়াস সবসময়ই লক্ষণীয়। এরকম চাপ প্রয়োগ করে তারা নানা সময়ে সরকারের কাছ থেকে সুবিধাদিও আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এবারও তারা এমন সংঘশক্তির জোর দেখিয়ে সরকারের একটি যাত্রীবান্ধব কর্মসূচিকে অন্যায়ভাবে বন্ধ করার প্রয়াস শুরু করেছে বলে বুঝা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, পরিবহন সেক্টরের এই চাপ সরকার কোন দৃষ্টিতে দেখছেন, কেমনভাবেই বা এটি মোকাবিলা করবেন? বিআরটিসি সরকারি মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। সারা দেশেই এই পরিবহনের সার্ভিস চালু আছে। এমন অবস্থায় একটি জেলায় বিআরটিসির সার্ভিস চালুর কারণে হঠাৎ কেন পরিবহন সেক্টরের এত গাত্রদাহ তৈরি হলো সেটিও অনুধাবন করতে হবে সরকারকে। এ হলো একাধিপত্য খাটিয়ে ¯্রফে নিজেদের পচা-নষ্ট মাল গিলতে মানুষকে বাধ্য করার নামান্তর।
এই অনৈতিক ধর্মঘট কর্মসূচীর খবর চাউর হলে সামাজিক গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এক সুরে এই ধর্মঘটের নিন্দা জানিয়ে সরকারকে কঠোর হস্তে তা দমন করার আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সাথে তারা সাধারণ মানুষকে এর বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোরারও আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। যেকোনো অবস্থায় দুইটি পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে নৈরাজ্য তৈরিরও আশংকা থাকে। আমরা কি এমনই এক নৈরাজ্যকর অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছি? যারা আজ ধর্মঘট আহ্বান করেছেন, জনমতের এই তীব্রতা সম্পর্কে তাদেরকে যথাযথ জ্ঞান প্রদান করা প্রশাসনের দায়িত্ব। দেশের যাত্রী সেবায় অব্যাহতভাবে ভূমিকা রেখে যাওয়া বেসরকারি পরিবহন সেক্টরটিকে আজ বুঝতে হবে তারা যৌক্তিক পথে হাঁটবেন নাকি কেবলমাত্র শক্তির জোরে জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবেন।
কথায় কথায় ধর্মঘট, কর্মবিরতি ডাকার যে সংস্কৃতি পরিবহন সেক্টরে বিরাজমান, সেটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। প্রয়োজনে আইনি পন্থায় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলায় বিআরটিসি বাসের আগমনকে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। বেসরকারি পরিবহন সেক্টরকে এর সাথে প্রতিযোগিতা করেই নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে হবে। এমনিতেই সারা দেশে পরিবহন সেক্টরের একটি নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। নিজেদের সেবার মান বাড়িয়ে যেখানে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সচেষ্ট হওয়ার কথা সেখানে তারা সেটি না করে বরং জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলার লক্ষে যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, তাতে করে তাদেরকে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখেই পড়তে হতে পারে। এই সত্য উপলব্ধি করতে না পারলে তাদের সামনে সমূহ বিপদ অপেক্ষমাণ।