পরিবেশবিধ্বংসী বোমা-ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করে দেয়াই উত্তম

আমরা প্রায়শই অবৈধভাবে বালু ও পাথর আহরণে নিয়োজিত বোমা ও ড্রেজার মেশিন জব্দ করতে দেখি পুলিশ বা ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে। মোটামোটি অনিয়মিত বিরতিতে হলেও এ ধরনের জব্দকরণ প্রক্রিয়ার সাথে আমরা কম-বেশি পরিচিত। সংবাদ মাধ্যমে এসব অভিযানের খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয়। পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের তাগিদ থেকে এবং অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা চালু রাখার জন্য সকলেই এইসব অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে থাকেন। কিন্তু গভীরভাবে যদি পর্যালোচনা করে দেখা হয়, তাহলে একটি প্রশ্ন উঠেই, সেটি হলোÑ এইসব অভিযানের ফলে আদৌ কি বোমামেশিনের অবাধ রাজত্ব কমানো সম্ভব হচ্ছে? বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। জেলার বালু পাথর মহালগুলোতে এইসব পরিবেশ বিধ্বংশী বোমা ও ড্রেজার মেশিনের দুর্দ- প্রতাপ একটুও কমেনি। তাহলে পালটা যে প্রশ্নটি আসে তা হল, এইসব অভিযানের স্বার্থকতা কোথায়? আসলেই কোন স্বার্থকতা নেই। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এইসব অনান্তরিক অভিযান আদৌ ফলপ্রসু হবে না, কারণ সম্ভবত প্রতিকারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কখনও চান না যে, এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হোক। অবৈধ বোমা ও ড্রেজার মেশির পরিচালনার বিনিময়ে নানা ঘাটে দক্ষিণা দেয়ার খবর সকলের জানা। এরকম একটি অর্থকরী খাতকে সম্ভবত নির্মূল করতে রাজি নন কেউ। দেশের স্বার্থ, মানুষের স্বার্থ, পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ, খেটে খাওয়া মানুষের বাঁচার অবলম্বন রক্ষা করা; ইত্যাদি এখন কেবল মুখের কথা, আনুষ্ঠানিক গালভরা বুলি বিশেষ মাত্র। আসলে ক্ষমতা এখন টাকার কাছে বন্দী। দেশ গোল্লায় যাক অথবা পরিবেশ ধ্বংস হোক, মাথা ঘামানোর দরকার নেই; দেখ কেবল- ‘ফেল কড়ি, মাখ তেল’ অবস্থা ঠিক আছে কিনা।
এতসব কথা উল্লেখ করার উপলক্ষ এনে দিয়েছে, গত মঙ্গলবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ। ওই দিন ধোপাজান চলতি নদীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২৬টি বোমা মেশিন জব্দ করেছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। সাধুবাদ পাওয়ার মত খবর বটে। কিন্তু দেখা গেল এই বোমামেশিনগুলো ধ্বংস না করে জব্দ করে রাখা হয়েছে। ধারণা করা যায়, অল্পদিনের মধ্যেই এই বোমা মেশিনগুলো আবারও নিজ কাজে ফিরে যাবে। এক সময় এই ধোপাজানেই বেশ কিছু বোমা মেশিন তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। বোমামেশিন ধ্বংস করে দেয়ার ফলে এর মালিকরা বেশি আর্থিক লোকসানের সন্মুখিন হন। ফলে এরা আবারও ক্ষতির ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। যুিক্ত তাই বলে। কিন্তু যখন অবৈধ বোমা মেশিন ফেরৎ পাওয়ার উপায় বিদ্যমান থাকে তখন আসলে এর ব্যবহার নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা বিদায় হয়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য জব্দকৃত বোমা ও ড্রেজার মেশিনগুলো তাৎক্ষণিক ধ্বংস করে দেয়াটাই উচিৎ কাজ বলে সকলেই মনে করেন। যেমন পুড়িয়ে ফেলা হয় অবৈধ কারেন্ট জাল অথবা ধৃত মদ. গাঁজা, অন্যান্য মাদকদ্রব্য। পরিবেশ বিনষ্টকারী অবৈধ যন্ত্রদানব নষ্ট করে দেয়া হলে এর মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়, বার্তা ছড়ায়। সেটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে সর্বত্র। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক্ষেত্রে কিছুটা কঠোর হতে হবে। নতুবা যেই লাউ সেই কদু হয়েই বোমা মেশিন চলবে, ড্রেজার চলবে, বালু-পাথর মহালের পার্শ্ববর্তী জনপদ ও পরিবেশ নষ্ট হবে; সর্বোপরি যুগ যুগ ধরে এই খাতকে অবলম্বন করে বেঁচে থাকা অসংখ্য শ্রমজীবী পেশা হারাবে।