পর্যটন এলাকাগুলোকে গড়ে তুলতে হবে পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের

গতকাল বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পুরো পৃষ্ঠা ব্যাপী বিশেষ আয়োজন পাঠকদের উপহার দিয়েছে। জেলার প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর উপর প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ প্রতিবেদনসমূহ। ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক কারণে সুনামগঞ্জের একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের বহু স্পট অভ্যন্তনীণ পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। তাই বছর বছরই আমরা এসব স্পটে প্রচুর অভ্যন্তরীণ পর্যটকের দেখা পাই। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর সুনামগঞ্জের এই পর্যটন সম্ভাবনাকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে আরও পরিচিত করে তুলতে বিশেষভাবে আগ্রহী। তাই এমন আয়োজন।
পৃথিবী ব্যাপী সম্ভাবনাময় যেসব পর্যটন এলাকা সমৃদ্ধ দেশের কথা বলা হয় সেগুলো প্রধানত বৈদেশিক পর্যটক নির্ভর। বৈদেশিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে না পারলে কেবল কিছু সৌখিন অভ্যন্তরীণ পর্যটককের উপর নির্ভর করে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে সেটি অর্জন করা সম্ভব নয়। বৈদেশিক পর্যটকরা দেশে ঢুকলে তারা পকেটে করে কিছু ডলার, পাউন্ড, রুবেল, ইয়েন ইতাদি নিয়ে আসেন। এই মুদ্রা তাঁরা অভ্যন্তরীণ বাজারে খরচ করেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল স্ফিত হয়। মূলত এই কাজে সফল না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে যত কথাবার্তাই বলি না কেন তা সম্ভাবনাকে আশঙ্কায় পরিণত করবে। টাঙুয়ার হাওর ও টেকেরঘাটকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের প্রধান পর্যটন স্পট সীমাবদ্ধ। দেশীয় পর্যটকরা এখানে এসে হাওর ও পরিবেশের যে পরিমাণ ক্ষতি করে যাচ্ছেন তা এ খাত থেকে প্রাপ্ত টুকটাক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এখানে পরিবেশবান্ধব কোনো পর্যটন ব্যবস্থা এখনও গড়ে তোলা যায়নি। তাই কখন এই পর্যটন গলার কাঁটা হয়ে উঠে তা ভেবে দেখার বিষয় বটে।
আমাদের দেশের যে সামাজিক রক্ষণশীল পরিবেশ সেখানে ব্যাপকভাবে বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা কঠিন বটে। কারণ পর্যটনের সাথে একটি বিশাল সংখ্যক পর্যটক চান বিনোদন। তাদের কাক্সিক্ষত বিনোদনের ব্যবস্থা কখনও আমাদের দেশে করা সম্ভব হবে না। তবে বৈদেশিক পর্যটকদের একটি অংশ নিশ্চয়ই প্রকৃতি ও পরিবেশের টানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছুটে যান। এদের কাছে আমাদের পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা আবশ্যক। এজন্য আমাদের বিদেশি দুতাবাসগুলো ভালোভাবে প্রচারণার কাজ শুরু করতে পারে। দুতাবাস ছাড়াও অন্য সব উপায়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। এজন্য পর্যটন এলাকাভিত্তিক ভিডিও চিত্র দেশে দেশে প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। পাশাপাশি পর্যটন এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করতে হবে আধুনিক। এখানে থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত রাখতে হবে। সর্বোপরি দিতে হবে যথাযথ নিরাপত্তা। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাও আরেক কর্তব্য।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর যে মহান আকাক্সক্ষা পোষণ করে, আমাদের পর্যটন মন্ত্রণালয়কে তা ধারণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা এসব বিষয় কেবল পর্বতের মুষিক প্রসবের মতো ব্যাপার হবে। অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের দ্বারা আমাদের অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত মূল্যবান এবং এই এলাকার জীবন ও জীবিকার অন্যতম উপকরণ হাওরের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, উচ্চ শব্দ তৈরি করে, ক্রমাগত নৌযান থেকে নির্গত ক্যামিকেল বর্জ্য দ্বারা যেন আমরা মিঠা পানির মৎস্যসম্পদকে ধ্বংস না করে ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি বরে আমরা মনে করি। পর্যটকদের দ্বারা ফেলে দেয়া প্লাস্টিক ও কাামিকেল বর্জ্য হাওরের ধান উৎপাদন ক্ষমতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে নিঃসন্দেহে। পর্যটনের চাইতে আমাদের কাছে এখনও ধান ও মাছই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কখনও যদি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আনা যায় তাহলে পরিবেশ-প্রতিবেশের কোনো ক্ষতি হবে বলে আমাদের মনে হয় না। কারণ তখন একটি আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।