পাউবো’র বাঁধ রক্ষা করল নবীনগর হালুয়ারঘাট সড়ক

লিপসন আহমেদ
বর্ষাকালে একটু ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল নামলেই সুনামগঞ্জ শহরতলীর নবীনগর এলাকায় কিছু অংশ ডুবে যেত। পাকা সড়কের উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি প্রবল বেগে গড়িয়ে হাওরে প্রবেশ করায় ভেঙ্গে যেত পাকা সড়ক। সবধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ত।
কিন্তু গত শুকনো মৌসুমে নবীনগরের সুমন স’মিল থেকে সুরমা নদীর তীর দিয়ে ধারারগাঁও পর্যন্ত বোরো ফসলরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে উঁচু সড়ক করায় চলতি বর্ষায় গত কয়েকদিন ধরে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও নবীনগর-হালুয়াঘাট পাকা সড়কটি তলিয়ে যায় নি।
১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সুরমা নদীর তীরে ৭৩৫ মিটার দৈঘ্যের এই বাঁধ নির্মাণ করেছে কুরবাননগর ইউনিয়নের ৩ নং পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাওরের বোরো ফসলরক্ষার একটি প্রকল্প নদী তীরে বাস্তবায়ন হওয়ায় পাকা সড়কটির খুব উপকার হয়েছে। যদিও ঐ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছিল এটি একটি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বলে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন ও কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাব ছিল সুরমা নদীর তীরে মাটির উঁচু বাঁধ নির্মাণ করলে নদীর পানি পাকা সড়ক উপচে পূর্বদিকের হাওরে প্রবেশ করতে পারবে না। সড়কটিও ভাঙ্গনের কবলে পড়বে না। নানা আপত্তি থাকার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। সম্প্রতি সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এই পাকা সড়কটি না ডুবায় উপকার পেয়েছে কুরবাননগর ইউনিয়নসহ এলাকাবাসী।
গত দুই বছর আগে বর্ষায় পাকা সড়কটি পানিতে ডুবে গেলে ¯্রােতের মাঝে গোসল করতে গিয়ে এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এরপর এই সড়কে চলাচলে মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছিল এবং নবীনগর-হালুয়ারঘাটের মূল সড়কটিতে কিছুদিন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
বৃহস্পতিবার নবীনগর এলাকায় গিয়ে জানা যায়, নবীনগর এলাকায় কিছু অংশে পানি উঠলেও নবীনগর-হালুয়ারঘাটের মূল পাকা সড়কটিতে এখন পর্যন্ত পানি উঠেনি। স্থানীয়দের দাবি এবছর পানি উন্নয়ন বোডের্র পিআইসির মাধ্যমে নদীর তীরে যে বাধঁটি তৈরি করা হয়েছে সেটি এই পানি আটকে রেখেছে। ফলে এই রাস্তায় পানি না উঠায় খুশি নবীনগর এলাকাবাসী সহ-এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা পথচারীরা।
নবীনগর এলাকার বাসিন্দা মফিজুল হক বলেন,‘ নদীর পাড়ের বেড়িবাধেঁর জন্য এই বছর নবীনগর এলাকায় পানি উঠতে পারেনি। যে জায়গায় বেড়িবাঁধ নাই সেই জায়গার পাশ দিয়ে কিছু অংশে পানি উঠছে যা রোদ উঠলে শুকিয়ে যাবে।’
নবীনগর এলাকার আরেক বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন,‘ গত বছর বন্যার পানি আমার ঘরে উঠে গিয়েছিল কিন্তু এই বছর এখনও পানি আমার ঘরে উঠেনি। তার কারণ এই বছর নদীর পাড়ে যে বেড়িবাঁধটি দেওয়া হয়েছে তা খুবই মজবুত।
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম বলেন,‘ সুরমা নদীর তীরে পাউবোর এই বাঁধ নির্মাণে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। না হলে নদীতে একটু পানি বাড়লেই পাকা সড়কটি ডুবে গিয়ে আমাদের সমস্যা হত। ’
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন,‘ পিআইসির এই বাঁধটি নির্মাণ করায় আমাদের কুরবাননগর ইউনিয়নবাসী তথা সুরমা উত্তরপাড়ের লোকজনের খুব উপকার হয়েছে। সুরমা নদীর তীরে এই বাঁধটি না দিলে নবীনগর-হালুয়াঘাট সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হত এবং সড়কটি ভেঙে যেত। এতে করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ত ও চরম দুর্ভোগের শিকার হত এলাকার লোকজন। ’
তিনি আরো জানান, কুরবাননগর ইউনিয়নের অন্তর্গত এলাকায় বাঁধ দেয়ায় পাকা সড়কের উপর পানি উঠেনি। কিন্তু পৌরসভা এলাকায় নদী তীরে বাঁধ না থাকায় নদীর পানি সড়ক গড়িয়ে নবীনগর এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং অনেকের ক্ষতি হয়েছে।’
পাউবোর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘ কুরবাননগর ইউনিয়নের সুরমা নদীর তীরে পিআইসির এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বিভিন্নজন একে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি ঠেকিয়ে সড়কের পূর্বপাশের লোকজনকে পানি কবলিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে এই প্রকল্পটি। উপজেলার একটি অংশের লোকজনের প্রধান পাকা রাস্তার নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা রোধে কাজ করছে। ’