পাগনার হাওরের দুঃখ দূর হওয়ার সময় এসেছে কি?

১১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি আর বেশ কয়েকটি জলাশয় নিয়ে গঠিত বৃহত্তর পাগনার হাওর, গত ২০ বা ততোধিক বছর ধরে এই হাওরে জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট হয়ে বোরো চাষাবাদকে সংকুচিত করে রেখেছে। গত মৌসুমে এই হাওরের প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে বোরো চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি। প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ১৪০ মণ ধান উৎপাদন হলে গত বছর এই হাওরে ১২ লাখ ৩২ হাজার মণ ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ ফসল আবাদ না করার কারণে শুধু এই একটি হাওরেই এক বছরে ১২৮ কোটি টাকার ধান উৎপাদন থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। ধান উৎপাদন না করতে পারার এই হিসাবটি যদি বিগত ২০ বছরের কষা হয় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এত বিশাল ক্ষতি কেন আমরা বয়ে চলেছি বছরের পর বছর ধরে? পাগনার হাওরে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে তা দূর করার কোন উপায় নেই? স্থানীয় কৃষকরা হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য লম্বা এই সময় ধরেই নানাভাবে কর্তৃপক্ষের ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। তারা জলাবদ্ধতা দূর করতে কোন্ কোন্ খাল ও নদী খনন করতে হবে তার বিবরণও সময় সময় হাজির করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, কৃষকদের এসব আহাজারি এতদিন কারও নজর আকর্ষণ করতে পারেনি। ২০১৭ সনে যখন জেলার শতভাগ বোরো ফসল বিনষ্ট হয় তখন গণমাধ্যমের বদৌলতে বিষয়টি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। এসময় বৃহত্তর পাগনার হাওরের স্থায়ী জলাবদ্ধাতার সমস্যাটিও পানিসম্পদমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। মন্ত্রী সরেজমিন উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে সংকটের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি এই জলাবদ্ধতা দূরিকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এরই ফলশ্রুতিতে প্রায় তিন কোটি টাকার নদী-খাল খনন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে কিছু দিনের মধ্যে। এই কাজটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ম্ধ্যামে বাস্তবায়ন করা হবে। পাউবো গজারিয়া খাল ও কানাইখালী নদী খননের কাজ শুরু করবেন শিগগিরই। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র মাধ্যমে পুরো জেলায় নদী খননের যে কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নাধীন আছে এবং ভবিষ্যতে হবে; সেখানেও পাগনার হাওরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার খনন কাজ অন্তর্ভূক্ত থাকবে। বহুদিন পর বড় এই ধানভা-ারকে উৎপাদনশীল করতে সরকার যে আন্তরিকতা ও আগ্রহ দেখাচ্ছেন তাতে হাওরপাড়ের কৃষকরা নিঃসন্দেহে খুশি। কৃষকদের এখন একটাই চাওয়া, সেটি হল- খনন কাজটি যাতে যথাযথভাবে শেষ হয়ে হাওরের দুঃখ দূর করতে পারে। ২০১৭ সালে বা তৎপূর্বে বাঁধের কাজে সীমাহীন দুর্নীতির পূর্বঅভিজ্ঞতা কৃষকদের শঙ্কিত করে তুলে।
সামনের বোরো মৌসুম শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। কৃষকরা বলছেন, খনন কাজ দ্রুত শেষ করা না হলে হাওরের পানি সময়মত নামতে পারবে না। কৃষকদের এই শঙ্কার জায়গাটুকুকে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুবা সময়ের কাজ অসময়ে করে এবার আরও ১২৮ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করা কোন মতেই কাম্য হবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট আমাদের আকুল আহ্বান, আপনারা দয়া করে দ্রুত খনন কাজ শুরু করুন। খনন কাজে যাতে কোন ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে সেজন্য শক্ত তদারকি ব্যবস্থা জারি রাখুন। মনে রাখবেন, আপনি আমি সকলেরই রয়েছে কৃষি ব্যবস্থার সাথে নাড়ির সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক মনে রেখে ভালভাবে খনন কাজটি শেষ করতে উদ্যোগী হোন।