পাগনার হাওরের স্থায়ী বাঁধ কেটেছে ১১ মাছখেকো

বিন্দু তালুকদার
মাছ শিকারের জন্য জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাগনার হাওরের বোরো ফসলরক্ষার স্থায়ী বাঁধ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার কামধরপুর গ্রামের মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামধরপুর বাজারের উত্তরপাশে গজারিয়া ঢালা নামক স্থানে কামধরপুর গ্রামের ১১ লোক বাঁধের প্রায় ২০ ফুট জায়াগা কোদাল দিয়ে কেটে দিয়েছে। এরপর নদীর ¯্রােতে বাঁধের ভাঙন বড় হয়ে কয়েক শ’ ফুট প্রশস্ত হয়েছে এবং হাওরে পানি ঢুকছে। গত বোরো মৌসুমে ২০ লাখ ব্যয়ে এই বাঁধের মাটির কাজ করা হয়েছিল। বর্ষার পরও বাঁধের প্রায় ৪ ফুট পানির উপরে রয়েছে।
গজারিয়া ও কামধরপুর গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, পাগনার হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধটি বাঁধ কাম রাস্তা। এই বাঁধের উপর দিয়ে এলাকার লোকজন চলাচল করে। মাছ ধরার জন্য শুক্রবার গভীর রাতে বাঁধের কিছু অংশ কেটে দেয় কামধরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, কবির মিয়া, নজরুল ইসলাম, হেলাল মিয়া, আবুল ইসলাম, আজহারুল মিয়া, হুমায়ুন মিয়া, মো. আলমগীর, রাজু মিয়া, কাঁচা মিয়া ও জসিম উদ্দিন। ঘটনার রাতে নৌকায় থাকা দুই লোক তাদের বাঁধ কাটতে দেখেছে। পরে রবিবার সন্ধ্যায় কামধরপুর বাজারে আলীপুর, কামধরপুর ও গজারিয়া গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে বাঁধ কাটার কথা স্বীকার করেন ওই মাছ শিকারীরা। এরপর সোমবার দুপুরে লোভী মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এই বাঁধটিতে সরকার ২০ লাখ খরচ করেছে। বাঁধটি হাওরের ধান রক্ষার পাশাপাশি রাস্তা হিসেব ব্যবহৃত হয় এবং বাঁধটি বেশ উঁচু। এলাকার লোকজন এই বাঁধের উপর দিয়ে সারা বছরই চলাচল করতে পারতেন। কিন্তু কামধরপুর গ্রামের ৮/১০ জন লোক অতি লোভে মাছ ধরার জন্য রাতে কোদাল দিয়ে বাঁধ কেটে দিয়েছেন। রবিবার রাতে কামধরপুর বাজারে লোকজনের কাছে তারা স্বীকার করেছে যে, তারা কোদাল দিয়ে বাঁধ কেটেছে। এখন বাঁধ ভাঙার কারণে আমন জমি চাষ করা সম্ভব হবে না। বাঁধটি আবারো হেমন্তকালে নতুন করে বাঁধতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ হবে।’
কামধরপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়া বলেন, ‘এই বাঁধটিতে কয়েক বছর মাটি ফেলে স্থায়ী সড়কে পরিণত করা হয়েছে। হাওরের ফসলরক্ষার পাশাপাশি এটি গ্রামীণ সড়ক। কিন্তু কয়েকজন লোক মাছ ধরার লোভে বাঁধটি রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে। প্রথমে কিছু জায়গা কাটা হলেও ¯্রােতের কারণে এখন প্রায় ৩০০ ফুটের মত জায়গা ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে। রবিবার রাতে তারা তিনগ্রামের লোকজনের সামনে বাঁধ কাটার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আহমদ বলেন, ‘যে স্থানে বাঁধটি কাটা হয়েছে সেটিসহ আরো ৫টি ভাঙাসহ মোট ২০ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাটি ভরাট করা হয়েছিল। গত শুক্রবার রাতে কামধরপুর গ্রামের ১১ জন লোক কোদাল দিয়ে বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এলাকার লোকজন শনিবার সকালে জানতে পেরেছে। এখন কামধরপুর গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই ভাঙাটি আবার হেমন্তকালে মেরামত করতে হবে। মাছ ধরার জন্য যারা বাঁধ কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি আজ থানা মামলা দায়ের করবো।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাগনার হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস বলেন, ‘এই বাঁধের পিআইসির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আহমদ সোমবার দুপুরে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। স্থানীয় উপকারভোগীদের কেউ আইনী পদক্ষেপ না নিলে প্রয়োজনে আমরা আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘মাছ ধরার জন্য যে বাঁধটি কাটা হয়েছে সেটি বাঁধ ও এলাকার চলাচলের রাস্তা। কিন্তু এটি কেটে দেয়ার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার একজন লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই বাঁধের পিআইসির সভাপতিকে বলা হয়েছে বাঁধ কাটার সাথে জড়িতেদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করতে। না হলে উপজেলা প্রশাসন থেকে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। ’