পাগলায় সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত, আহত ৩০

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলায় সিএনজি স্ট্যাড স্থাপন করে পথ দখল করার প্রতিবাদ করা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ১ শিক্ষার্থী নিহত এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। ফের সংঘর্ষের আশংকায় পাগলাবাজারে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের একপাশে সিএনজি স্ট্যান্ড করায় চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার রায়পুর গ্রামের সেইচা মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম মারা গেলে ওই পথ দিয়ে পাগলা হাইস্কুল মাঠে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেয় তার স্বজনরা। এসময় রায়পুর গ্রামের মরদেহ বহনকারীরা সিএনজি চালকদের চলাচলের পথ থেকে সিএনজি সরানোর জন্য বলেন। এই নিয়ে দুই পক্ষে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রায়পুর গ্রামের লোকজন মরদেহ স্কুল মাঠে রেখে এসে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পাগলা স্কুল এ- কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহনূর মিয়া বাড়ি ফেরার সময় সিএনজি স্ট্যান্ডের সামনে আসলে প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি তাকে কোপায়, এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যায় ওই স্কুল শিক্ষার্থী। এরপর তিন দফা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের আলী হোসেনের পক্ষের মৃত আব্দুল মতলিবের ছেলে মো. হাফিজুর রহমান (৩৫), মৃত সমছুৃ মিয়ার ছেলে তানিম আহমদ (৩০), মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ছালেহ আহমদ (২৫) ও মৃত আরশ আলীর ছেলে আলী হোসেন (৩৫), রায়পুর গ্রামের রাজন মিয়ার পক্ষের আঞ্জব আলীর ছেলে নাসির মিয়া (২২), মৃত মনাই মিয়ার ছেলে বুলু মিয়া (৫৪), আব্দুল আলীমের স্ত্রী মোছা. আছমা বেগম (৩৫), আরব আলীর ছেলে মো. আক্তার হোসেন (২০), নিজাম উদ্দিনের ছেলে ছোটন মিয়া (১৬), নজর ইসলামের ছেলে মো. সোহেল মিয়া (২৫), মৃত আহমদ আলীর ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৫০), আঞ্জব আলীর ছেলে আসকর আলী (৩৫) , মৃত মমিন ইসলামের ছেলে শাহ মো. ফরিদ মিয়া (৪৫)। আহতদের তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক। এরা হলো কান্দিগাঁওয়ের হাফিজুর (৩৮) এবং রায়পুরের ছোটন মিয়া (২০)। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কান্দিগাঁও গ্রামের মো. জিল্লুল হকের ছেলে জকি মিয়া (২২) কে আটক করেছে। এসময় উভয়পক্ষের মারপিট থামাতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন(৪০) নামের একজন ট্রাফিক পুলিশ আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান, সিএনজি চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে রায়পুর গ্রামের একটি পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।